ডি. এম. আরাফাত হোসাইন

জাবি প্রতিনিধি

তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়

বন মোরগ অার বুনো খরগোশের গ্রাম

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩:২৮:৫১

ডি. এম. অারাফাত হোসাইনঃ

কেমন লাগবে যদি পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ চোখের সামনে একটি বনমোরগ কিংবা একটি বুনো খরগোশকে দৌড়ে যেতে দেখেন ! নিশ্চয় অবাক হবেন। মনের ভেতর একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করবে। তবে চাইলেই তো অার যেখানে সেখানে এদের দেখা মেলা সম্ভব নয়। এজন্য অাপনাকে যেতে হবে দেশের সর্বোত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায়। তেঁতুলিয়া সদরের সীমান্তঘেঁষা ছোট্ট একটি গ্রাম খুনিয়াভিটা। লোকজনের কাছে যা কাজীপাড়া নামেই অধিক পরিচিত।
গ্রামের প্রান্তঘেঁষে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। অার নদীর পাড় ধরেই ভারতীয় বনভূমি। স্থানীয়দের কাছে যা ফরেস্ট নামে পরিচিত। ওপাড়ে ভারতীয় ফরেস্ট অার চা বাগান। এপাড়ে কাজীপাড়ার জঙ্গল, দিগন্তবিস্তৃত অাখক্ষেত অার মনোরম চাবাগানেই দেখা মিলবে বাংলাদেশের মহাবিপন্ন শেখ ফরিদ পাখিটির। শেখ ফরিদ স্থানীয়দের কাছে বনমোরগ বা বনমুরগি হিসেবে পরিচিত। তবে এর শুদ্ধ নাম কালো তিতির। কালো তিতিরের বৈজ্ঞানিক নাম F. Francolinus. ভারত, পাকিস্তান, ভুটানসহ এশিয়া মহাদেশের বহু দেশেই এর দেখা মেলে। তবে বাংলাদেশে এ প্রজাতিটির একমাত্র অাবাস্থল তেঁতুলিয়ার কাজীপাড়া, দর্জিপাড়ার ঝোপঝাড় অার চাবাগান।

মার্চ থেকে অক্টোবর মাস কালো তিতিরের প্রজনন মৌসুম। এসময় পুরুষ তিতির গলা টান করে ডাকতে থাকে। লেজ ওঠা নামা করে। লম্বা ঘাসের গোড়ায় বা ঘন ঝোপের নিচে মাটির খোদলে ঘাস দিয়ে বাসা বানায়। বাসা বানানো শেষে ৬-৯টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো হলদে-জলপাই থেকে হালকা জলপাই-বাদামি রঙের হয়। শুধু স্ত্রী তিতির ডিমে তা দেয়। ১৮-১৯ দিন পর ডিম ফুটে ছানা বের হয়। বিপদের গন্ধ পেলে এরা মুহূর্তের মধ্যে লুকোতে সক্ষম।
বনমোরগ ছাড়াও এই গ্রামে বুনো খরগোশের দেখা মেলা। মেটে রঙের এসব খরগোশের একসময় প্রচুর বিচরণ থাকলেও, অব্যাহত শিকারের ফলে দিনদিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রকৃতির রূপসীকন্যা তেঁতুলিয়ার রূপসৌন্দর্য্যে বনমোরগ অার বুনো খরগোশ এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। প্রকৃতির এই রূপসূধা পান করতে চাইলে তেঁতুলিয়া অাপনাকে অামন্ত্রণ জানাচ্ছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: