কামরুল হাসান মুরাদ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

রাজাপুরে জেলেদের সহায়তা না দিলে অভিযান কার্যকর করা কঠিন

২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৪:১২:০৪

কামরুল হাসান মুরাদ:: মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ২০১৮ উপলক্ষে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিনের অভিযানে ইলিশ ধরা বন্ধের নির্দেশ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরে বিষখালী নদীতে চলছে ইলিশ মাছ ধরা। নদী থেকে মা ইলিশ ধরা,মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জেলেরা বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরছেন। উপজেলার অনেক জেলে এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যদি কাজ না হয়, তবে সেই নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী!
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করতে জেলেরা বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছেন। মৎস্য বিভাগের লোকজন সাধারনত অভিযান চালান। তাদের সেই অভিযান শেষ হওয়ার পর জেলেরা নদীতে নামেন মাছ ধরতে। পরদিন বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করে ইলিশ মাছ বিক্রি করেন। ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়েছে। এ মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে উপকূলীয় নদীর পানিতে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষনের জন্যই এ সময় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। জেলেদের এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাইকিং, পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট ও প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে জনসাধারনকেও সচেতন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের কারাদন্ডসহ নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও মাছ ধরা চলছে, কারন জেলেদের অভিযোগ, এ অবস্থায় দূর্দিনে রয়েছে রাজাপুর উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। রাজাপুর উপজেলার কার্ডধারী জেলে রয়েছেন ৯২৮জন। যারমধ্যে মাত্র ২১৮জন জেলে সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকেন। সহায়তা থেকে বঞ্চিতহচ্ছে শত শত জেলে। যার করনে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের সংসার চালাতে কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়। যার কারনে চলমান ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে জাল ফেলতে না পাড়া এবং প্রকৃত জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ চাল না পাওয়ায় জেলে পল্লীতে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। এই সময়টিতে জীবনধারনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছেন না। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা মাছ ধরছেন।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে বা এ নিষেধাজ্ঞার যে উদ্দেশ্য, সেই ফল পেতে হলে এ সময়টায় জেলেদের সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরও যদি কোনো জেলে ইলিশ মাছ ধরেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জনসাধারনের সচেতন থাকতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড প্রকৃত জেলেরা পান না। বেশিরভাগ জেলেরাই দিন কাটাচ্ছে কষ্টে ও অনাহারে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যৌথ অভিয়ান ছাড়া কখন ও মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। বিষখালী নদীর বেশীর ভাগ অংশ রাজাপুরের মধ্যে হলেও ঝালকাঠি,নলছিটি,বাখেরগজ্ঞ সিমান্তবর্ত্তি এলকা জুড়ে রয়েছে। রাজাপুরে মা ইলিশ রক্ষার জন্য অভিযান চললেও সিমান্তবর্ত্তি এলাকায় সঠিক ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না । তাই মা ইলিশ রক্ষা করতে হলে রাজাপুরসহ সিমান্তবর্ত্তি এলাকার প্রশাসনের একই সময়ে একত্রে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আরো বলেন, প্রকৃত জেলেরা বিশেষ ভিজিএফ চাল না পাওয়ায় জেলেরা জীবনজিবিকার জন্য ইলিশ মাছ ধরতে নদীতে যায়। কারন মাছ না ধরলে কি করে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করবেন! এজন্য প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলে রুবেল জানান, আমার একটি কার্ড রয়েছে কিন্তু আমি সরকারি কোন সহযোগিতা পাই না। বাপ-দাদার পেশা দরে রাখতে পরিবারকে নিয়ে এখন খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।অবরোধ চলছে তাই নদীতে মাছ ধরতে পারছি না। আর জেলে হিসাবে কার্ড থাকতেও মিলছে না সরকারি কোন সহযোগিতা।
এ সময় আক্ষেপ করে পালট গ্রামের মাসুম বিল্লাহ জেলে বলেন, সরকারি চাল বা সহযোগিতা আইয়া লাভ কি। ওই চাল জেলেরা পায় না। অবরোধের সময় মাছ না ধরে আমরা না খেয়ে থাকতাছি আর চাল পাবে ধনী লোকে। শুধু বড়ইয়া ইউনিয়নেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেরা দুর্দিনে রয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: