প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

সিলেটে অসহায় আত্মসমর্পণ মাহমুদউল্লাহদের

৬ নভেম্বর ২০১৮, ২:২৮:২৯

শেষ পর্যন্ত সিলেটে বিরাট হার বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই হারকে ‘আত্মসমর্পণ’ বলাটাই বোধ হয় শ্রেয়। হাতে গোটা দুই দিন নিয়ে ৩২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে সাকল্যে দেড় সেশনের বেশি টিকে থাকতে না পারলে তো সেটি আত্মসমর্পণই। হ্যাঁ, সিলেটের অভিষেক টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে গুটিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ ১৫১ রানে হেরে গেছে জিম্বাবুয়ের কাছে। হার আসতেই পারে, কিন্তু ১৮ বছর ধরে টেস্ট খেলা একটি দল তিনটা সেশন ঠিকমতো দাঁড়িয়ে লড়ে যেতে পারবে না!

অথচ, বড় একটা আশা নিয়েই আজ চতুর্থ দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস আর লিটন দাসের ওপেনিং জুটি ধীরে ধীরে নিজেদের ভিত্তিটা মজবুত করছিলেন। কাল শেষ বিকেলে ২৬ রানে অবিচ্ছিন্ন জুটিটা আজ সকালে নিজেদের আরও গুছিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু লিটন দাসের যেন কী হলো! সিকান্দার রাজার একটা শর্ট বল অযথাই পুল করতে গিয়ে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়লেন তিনি। রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টেলিভিশন আম্পায়ার রিভিউয়ে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখেননি। আউট হওয়ার আগে লিটন করেছিলেন ২৩।

লিটন ফেরার সময়ও বোঝা যায়নি বড় একটা বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়ান ডাউনে নামা মুমিনুল হক তাঁর বাজে ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। কাইল জার্ভিসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলকে ব্যাট ছুঁইয়ে টেনে এনে ‘প্লেইড অন’ হলেন। এরপর মোটামুটি সেট হয়ে যাওয়া ইমরুল ফেরেন ব্যক্তিগত ৪৩ রান করে। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও নাজমুল হোসেনের বিদায়ে বড় হারটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশের সব কটি উইকেটই রীতিমতো উপহার দেওয়া। প্রথমে রাজার বলে অহেতুক পুল করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লু লিটন। মুমিনুল জার্ভিসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলে ভেতরে টেনে এনে বোল্ড। ইমরুল রাজার বলে সুইপ করতে গিয়ে স্টাম্প অরক্ষিত রেখে বোল্ড। আর মাহমুদউল্লাহ সুইপ করতে গিয়ে কী যেন করলেন! নাজমুলও যে শট খেলেছেন, সেটি পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে নয়। মুশফিক, মেহেদীদের কোনোটাই পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে নয়। মোট কথা, আজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি কোনো প্রতিশ্রুতি আছে তাদের খেলায়।
আউট হয়ে ফিরছেন বিমর্ষ লিটন।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যর্থতাটা বড় বেশি চোখে লেগেছে। টেস্টে সর্বশেষ ১৪ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি নেই তাঁর। ফিফটি মাত্র দুটি। এরপর বলার মতো ইনিংসটি ৪৩ রানের। সিলেট টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলেছিলেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্বই নাকি তাঁকে ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু যে সময় তাঁর সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল, সে সময়টাতেই ব্যর্থ।

শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লড়লেন কেবল অভিষিক্ত আরিফুল হকই। ৩৮ রান করেছেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি না হলে লজ্জাটা যে আরও বড় হতো, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, দেশের মাটিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ কোনো ব্যাটসম্যানই একটু প্রত্যয় দেখাতে পারলেন না। এ বছরের জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুটি টেস্টে যে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি বাংলাদেশকে হতে হয়েছিল, তা থেকে নিজেদের বের করতে পারল না দল।

জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার ব্রেন্ডন মাভুতা। লেগব্রেকে তিনি তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সিকান্দার রাজা শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছেন—৩ উইকেট তুলে নিয়ে। এ ছাড়া ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নিয়েছেন ২ উইকেট। কাইল জার্ভিস নিয়েছেন একটি। বোলারদের অসামান্য বোলিং নৈপুণ্যে দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখল তারা। ২০১৩ সালে পাকিস্তানকে হারানোর পর এই প্রথম কোনো টেস্টে জয় পেল জিম্বাবুয়ে। আর এই জয়টি বিদেশের মাটিতে ১৭ বছর পর পাওয়া জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে চট্টগ্রামে পাওয়া জয়টিই বিদেশের মাটিতে তাদের শেষ টেস্ট জয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সেই দলে ছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, হিথ স্ট্রিকদের মতো মহিরুহ রা। এর মাঝখানের সময়টা জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে জন্য ছিল ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। রাজনৈতিক কারণে সেরা ক্রিকেটারদের প্রায় সবাইকেই হারিয়েছে তারা। দীর্ঘ পাঁচ বছর টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজেদের নির্বাসিত করেও রেখেছিল তারা। ক্রিকেটে এলিট জগতে ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পাওয়ার যে চেষ্টাটা জিম্বাবুয়ে করছে, বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে সে প্রমাণটাই তারা আজ রাখল সিলেটে। আর বাংলাদেশকে শুনিয়ে গেল সতর্ক ধ্বনি—সময় থাকতে সাবধান হওয়াই ভালো।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: