করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৭১,৪৫৩
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

অচেনা রূপে উপকূলীয় অক্সফোর্ড

৪ এপ্রিল ২০২০, ৫:০৫:৫৮

মোঃ ফাহাদ হোসেন, নোবিপ্রবি

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজারো তারুণ্যের স্বপ্নময় মুখ। আড্ডায় জমে ওঠা ছোট চায়ের দোকানের কাছের কাপগুলো। সহ -শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। কিন্তু যদি সে ক্যাম্পাস সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা একটি বিরানভূমিতে পরিণত হতে সময় লাগে না

চীনের উহান প্রদেশের শনাক্ত হওয়া করোনা হওয়া করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক। লকডাউনের কবলে অর্ধেক পৃথিবী। বাংলাদেশও তার ব্যত্তিক্রম নয়। ১৬ই মার্চ করোনা সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার প্রজ্ঞাপন জারি মাধ্যমে ৩১ ই মার্চ পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে ১১ ই এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখেছে।

কেমন আছে উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ একরের ক্যাম্পাস। ৬ টি অনুষদের অধীনে প্রায় ৭০০০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নভূমি এ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর সেই একাডেমি ভবন, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি আজ জনমানবশূন্য। করোনা সতর্কতায় বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে আপন নীড়ে।

ক্লাসের ফাঁকে, অবসরে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর সেই শান্তিনিকেতন, প্রশান্তি পার্ক, গোলচত্বর, নীল দিঘি, হতাশার মোড় আজ বড়ই নিশ্চুপ। হয়ত অপেক্ষায় রয়েছে আবার কবে ফিরে পাবে তার চিরচেনারূপ। বন্ধু দের নিয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আড্ডা টা আজ আর নেই। মহামারী করোনার ছোবলে হারিয়ে গেছে সোনালী স্মৃতিময় আড্ডাগুলো। বন্ধ হয়ে আছে ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততাময় ক্রীড়া চর্চা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সাদা ও লাল বিআরটিসির বাসাগুলো আজ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় গ্যারেজে। হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ যেন কেড়ে নিয়েছে তাদের কর্মব্যস্ততাময় দিনগুলো। অথচ কিছুদিন আগেও বাসে সিট ধরার জন্য দৌড়ঝাঁপ ছিল শিক্ষার্থীদের। আজকের চিত্র শুধুই নিরবতা। নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে থেকে তার চিরচেনা মুখগুলো আবার ফিরে আসবে বলেই হয়ত অপেক্ষা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আজ নিরবে দাঁড়িয়ে আছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও সহ শিক্ষার সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজে মুখরিত ছিল অডিটোরিয়াম ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, গোলচত্বর। সেই কর্মব্যস্ত জায়গাগুলো জনশূন্য। নেই কোনো সৃজনশীল কাজের ব্যস্ততা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও নেই কোনো ভিন্নতা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, বিবি খাদেজা হলগুলোতে আজ নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া কারোই আনাগোনা নেই। সুনসান নিরবতায় ঢেকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। আজ মনে একটাই প্রশ্ন, অপেক্ষার এ প্রহর কবে শেষ হবে??

কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ রিজুয়ান ফাহিম এর সাথে। তিনি বলেন, মহামারী ‘করোনা’ এর জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ , তা ভালো সিদ্ধান্ত। তবে ক্যাম্পাস-বিহীন জীবনটা খুবই বিরক্তিকর। ক্লাস, ক্লাসে শেষে শান্তিনিকেতন কিংবা পার্ক ক্যান্টিনে আড্ডা, নীলদীঘি, গোলচত্ত্বর, বাস, প্রিয় সব মানুষ গুলোর বিচরন সব কিছুকেই মিস করছি। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখে, সবাই যেন সুন্দর-ভাবে আবার এ প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে পারি এ কামনা করছি।

আইন বিভাগে পড়ছেন মহসিন আবেদীন। তার মতে, করোনা শতর্কতায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ” করোনা শতর্কতায় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত সঠিক। আল্লাহ তায়ালা কাছে এ প্রার্থনা থাকবে, পরিস্থিতি যেন তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যায়। ”
লেখক
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: