করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৯১৮ ◈ আজকে মৃত্যু : ৫০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১৩৯,৮৬০

অন্ধ হয়ে যেতে পারেন খালেদা!

২৮ এপ্রিল ২০১৮, ৯:৩০:২১

অনলাইন রিপোর্ট :
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেকোনো সময় অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। তার দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।
এমনটা আশঙ্কা করছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা।
শুক্রবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি। সেখানে কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করেছেন, এমন তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ মতামত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে। এখন উনার যে অবস্থা, একবার যদি কর্নিয়া ড্রাই হয়ে যায় তাহলে উনার এই কর্নিয়াকে ১৫ বছরেও ভালো করা যাবে না। যেকোনো সময়ে উনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে নিউরো মিডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘এখন উনার বেশি সমস্যা ঘাড়ে। চিকিৎসার ভাষায় বলা হয়, সার্ভাইক্যাল স্পন্ডলাইসিস। ডান হাত উনি যতটুকু শক্তি পাচ্ছেন, বাম পাতে ততটুকু পাচ্ছেন না। ফলে সবসময় ব্যথা করছে। এ ছাড়া হাতের আঙ্গুলগুলোতে রিউমারাইটিস আর্থ্রাইটিস আছে, আঙ্গুলগুলো ফোলা ফোলা, ব্যথা রয়েছে। উনার কোমড়ের হাঁড়গুলো ক্ষয় হয়ে স্পাইনাল কর্ডগুলো চাপা পড়ে গেছে। ফলে তিনি এখন হাঁটতে পারছেন না।’

অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এসব সমস্যায় শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে, প্যারালাইসিস হতে পারে, প্রস্রাব-পায়খান নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হতে পারে এবং হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে। তার এখন সুচিকিৎসা দরকার, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, তার ফিজিওথ্যারাপি দরকার এবং যথাযথ চিকিৎসার পরিবেশ দরকার। কারাগারে সে পরিবেশ নেই। সেখানে তিনি থাকলে ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবণতি হবে।’
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য ওয়েল ভেন্টিলেটেড এনভারমেন্ট একটা কক্ষ ও পরিবেশ দরকার। ওই স্যাঁত স্যাঁতে পুরনো কক্ষে থাকলে তার সমস্যাগুলো আরও বাড়তে থাকবে।”
অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ছাড়া কারাগারে তাকে রেখে দেওয়া হলে উনি কর্মক্ষমতা হারাতে পারেন। হয়ত তার জীবনী শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: