করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৭৭,৯৩৫
প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

আজ ঐতিহ্যবাহী সরকারি বাঙলা কলেজের জন্মদিন

১ ডিসেম্বর ২০২০, ৭:৩৭:৪০

মকিবুল মিয়া

বাঙলা কলেজ রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ। বাঙালির জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলাকে উচ্চতর শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে চালু করার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং তমদ্দুন মজলিশ-এর সভাপতি আবুল কাশেম। ১৯৬১ সালে তিনি কতিপয় শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানীগুণীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাঙলা কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম ও অফিস-আদালতের ভাষা হিসাবে চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, ডক্টর ইন্নাস আলীসহ তমদ্দুন মজলিসের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে একটি প্রস্ত্ততি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কয়েকটি ঘরোয়া বৈঠকের পর দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বাংলা একাডেমীতে এক সভা আহবান করে। ১৯৬১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকায় একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাঙলা কলেজ, মিরপুর
১৯৬১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান-এর সভাপতিত্বে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২৬ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক পরিষদ গঠিত হয়। এ পরিষদে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তৎকালীন গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আজম খান (সম্মতি সাপেক্ষে), পৃষ্ঠপোষক রায় বাহাদুর রণদাপ্রসাদ সাহা ও গুল মোহাম্মদ আদমজী, ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল দেওয়ান মোঃ আজরফ ও খান বাহাদুর আবদুর রহমান খান সহ-সভাপতি, প্রাক্তন ডিপিআই আবদুল হাকিম কোষাধ্যক্ষ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ সেক্রেটারি, অধ্যাপক আবুল কাসেম ও অধ্যাপক হাসান জামান জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহ মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মতিউর রহমান অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি। পরিষদের সদস্য ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আবদুস সালাম, সুনীল কুমার বসু, সাহিত্যিক মুহাম্মদ বরকত উল্লাহ, অধ্যাপক আবদুল হাই, কবি ফররুখ আহমদ, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ, ব্যারিস্টর আবদুল হক, অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলাম।

১৯৬১ সালের ১৮ জুন বাংলা একাডেমী সভাকক্ষে বাঙলা কলেজ সাংগঠনিক পরিষদের সভায় ঐ বছর জুলাই থেকে বাংলা কলেজের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অধ্যাপক আবুল কাসেম কর্তৃক পেশকৃত ডিগ্রি কলেজের পরিকল্পনা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কলা অনুষদে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও তমদ্দুন, অর্থনীতি ও প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি ও সমাজবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম বছরে প্রিন্সিপালসহ ১০ জন অধ্যাপক ও ১১ জন অফিস স্টাফ নিয়োগের প্রস্তাব গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে, ডিগ্রি কলেজের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপকবৃন্দ নিজ নিজ বিষয়ে তাদের ভাষণ বাংলায় লিখে আনবেন। কলেজ থেকে সেগুলি সাইক্লোস্টাইল করে ক্লাসে ছাত্রদের মাঝে বিলি করা হবে। বছর শেষে সেসব ভাষণ একত্রিত করে সম্পাদনার পর পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হবে।

১৯৬২ সালের ৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ড অফিসে বাঙলা কলেজ সাংগঠনিক পরিষদের ৪র্থ অধিবেশন বসে। খান বাহাদুর বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল অর্থ সংগ্রহ ও কলেজের জন্য স্থান নির্বাচন করা। অর্থ সংগ্রহের জন্য ঢাকায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট এবং চট্টগ্রামে অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কলেজ চালু করার জন্য সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলেও এক বছরেও একটি বাড়ি পাওয়া যায় নি। অবশেষে ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর বকশিবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটে নাইট কলেজ হিসেবে বাঙলা কলেজ কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলা বিভাগ ও বিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

১৯৬৩ সালে খোলা হয় একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ। ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এ কলেজের তবে ১৯৬৪ সালের মধ্যেই কলেজের ছাত্র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে চার শ’।

শুরুর দিকে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল ও অধ্যাপকগণ বিনা বেতনে বৎসরাধিককাল এবং কেউ কেউ নামমাত্র বেতনে অধ্যাপনা করেন। স্বয়ং প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ৮ বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি নবকুমার স্কুল ভবনে অফিস কক্ষ করার মতো স্থান না থাকায় তাঁর বাসভবন ৩২/২ আজিমপুরের নীচতলার একটি কক্ষ আসবাবপত্র, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সুবিধাসহ ছেড়ে দেন, যা কয়েক বছর বাঙলা কলেজের অফিস হিসেবে ব্যবহূত হয়। কলেজে সাপ্তাহিক ও ষান্মাসিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। কয়েক বছরের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে কলেজটি দেশের প্রথম সারিতে স্থান করে নেয়। ১৯৬৪ সালে বি.এ পরীক্ষায় বাঙলা কলেজের পাশের হার ছিল ৮৭.৫%।

১৯৬৩ সালেই মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, গণিত ও জীব বিজ্ঞান পড়ানোর অনুমতি দেয়। ১৯৬৫ সালে বাণিজ্য শাখা খোলা হয়। ১৯৬৯ সালে বি.কম ও বি.এসসি শ্রেণি খোলার অনুমতি মেলে।

বাঙলা কলেজ প্রায় একটানা ৭-৮ বছর নবকুমার ইনস্টিটিউট ভবনে নৈশ কলেজ রূপে চালু ছিল। স্কুলভবনে একসময় ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কলেজ চালু করার সিদ্ধান্ত হলে বাঙলা কলেজকে তা ছেড়ে দিতে হয়। বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পরই সরকারের কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়। ঢাকা শহরের তৎকালীন সীমারেখার মধ্যে কোনো জায়গা না পাওয়ায় মিরপুরের জঙ্গলাকীর্ণ ও খাদযুক্ত জমি হুকুম দখলের জন্য সরকারে কাছে আবেদন জানান হয়। ১৯৬৪ সালে বাঙলা কলেজের জন্য প্রায় ১২ একর জমি বরাদ্দ পাওয়া যায়। তৎকালীন ডিপিআই ফেরদাউস খানের চেষ্টা

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: