করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭০২,১৬৩
প্রচ্ছদ / Uncategorized / বিস্তারিত

আজ পালিত হবে ভার্চুয়াল পহেলা বৈশাখ!

১৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩১:৪৮

‘কতদিন হয়ে গেল বৈশাখ হয় না! আগে তো ১৪ এপ্রিল আসার আগেই উৎসবের আমেজ কাজ করতো। এবার অবশ্য আগেই বুঝতে পেরেছিলাম শোভাযাত্রা বা কোনও মেলা হচ্ছে না। লাল-সাদা সাজে ঘোরা হচ্ছে না চারুকলায়, কিংবা রিকশায়।’ হতাশার সুর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নাফিসা তৃষার কথায়। তার মতো আরও অনেকেই আছেন, যারা বৈশাখের জন্য এবার সত্যিই শোকাতুর। মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কতো কিছুই তো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার থাবায় সবই যেন বিষাদে রূপ নিয়েছে।

গেলো বছর পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ছিল না কোনও আনুষ্ঠানিকতা। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গতবছরের মতো এবারও লকডাউনে কাটবে নববর্ষ। ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে বৈশাখ উদযাপনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা।

দিনটি ঘরে বসেই কাটাতে হবে বেশিরভাগ মানুষকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না।

দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ হবে না ঠিকই, তবে পারিবারিক আবহে ঘরে বসে বৈশাখ পালনে তো বাধা নেই।

‘এবারও ঘরে বসে ভার্চুয়াল বৈশাখ করতে হবে। ছবি তুলে আপলোড দেওয়া হবে। ভিডিও কলে আড্ডা হবে। একটু আধটু রান্নাবান্নার আয়োজনও থাকতে পারে। তবে অনেকের মনেই বিষাদ। ঘটা করে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার কথা মনে হয় না তাদের মনে আছে।’ জানালেন শান্তিনগরের ইশতিয়াক হাসান।

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) রেজাউর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম যখন তখন বর্ষবরণের প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। সংসার জীবনে প্রবেশ করার পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শাহবাগের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গলযাত্রায় গিয়েছি‌। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সব স্থবির হয়ে আছে। গতবছরের মতো এবারও বৈশাখের দিনটি সবার সঙ্গে বাসায় কাটাবো।’

কয়েকদিন আগে করোনার ধকল কাটিয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন জানিয়ে মিরপুরের শিপলু-লামিয়া দম্পতি বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালেই রমনার বটমূলে যেতাম। সেখান থেকে শুরু করে সারাদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাটাতাম দিনটি। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও দিনটিতে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

মঙ্গল শোভাযাত্রা, ছায়ানটের অনুষ্ঠান এসব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল রেজাউল রাজ ও সুমাইয়া ইমু দম্পতির জন্য। ‘ঘোরাফিরার পাশাপাশি পান্তা-ইলিশের খোঁজে ঢুঁ মারতাম বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। ২০২০ সালে তা পারিনি। এ বছরও বৈশাখ পালন করা থেকে বিরত থাকছি। অবশ্য জনগণ যদি সচেতন হয় তবে করোনার প্রকোপ অনেকাংশে কমবে। পরের বছর নিশ্চয়ই আমরা আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে নববর্ষের উদযাপন করতে পারবো।’

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান ফাহিম জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় যাওয়া হতো একসময়। কলেজেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। গতবছর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এখন গ্রামের বাড়িতে আছি। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাটা মিস করবো খুব। আপাতত বৈশাখকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ধরাটা শুচি হোক অগ্নিস্নানে, দূর হোক করোনা।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: