fbpx
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

আশ্রয় নেয়া সেই গ্রামে যেভাবে থেকেছিলেন সম্রাট

৬ অক্টোবর ২০১৯, ৮:২১:৫৪

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

শনিবার গভীর রাতে কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। কিন্তু তাদের এই আত্মগোপনের বিষয়ে কিছুই জানত না প্রতিবেশীরা।

এলাকাটি সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় গ্রেফতারের পর স্থানীয় লোকজন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, সম্রাট ফেনী বা চৌদ্দগ্রামের এ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই ওই গ্রামে আত্মগোপন করেছিলেন।

স্থানীয় আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম ফারুক বলেন, যে বাড়ি থেকে সম্রাট র‌্যাবের হাতে ধরে পড়েছেন ওই বাড়িটি ফেনী পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা স্টার লাইন পরিবহনের মালিক হাজি আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি ও স্টার লাইন পরিহনের পরিচালক চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবিরের শীর্ষ ক্যাডার মনির চৌধুরীর।

তিনি বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রথমে র‌্যাবের ৭-৮টি গাড়ি নিয়ে ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ১০-১২টি গাড়ি মনির চৌধুরীর বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। ভোর ৫টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা সম্রাট ও তার এক সহযোগীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যায়।

বাড়ির মালিক পরিবহন ব্যবসায়ী শিবির নেতা মনির চৌধুরীর বোন নাজু বেগম বলেন, র‌্যাব যাদের ধরে নিয়ে যায় তারা তিনদিন আগে ওই বাড়িতে এসে দোতলার একটি কক্ষে অবস্থান নেয়। সেখানেই তাদের খাবার দেয়া হতো। তারা কখনও বাসার বাইরে বের হতো না। আমাদের জানানো হয় তারা বেড়াতে এসেছেন।

নাজু বেগম আরও বলেন, তিন মাস আগে আমার ভাই এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। অভিযানের সময় আমার ভাই মনির চৌধুরী বাসায় ছিলেন। পরে সম্রাট ও তার সহযোগীকে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব। তবে মুনির চৌধুরী জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে এখন সক্রিয়ভাবে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেশী আবুল কালাম ও রমজান আলী মিয়া জানান, মনির চৌধুরী জামায়াতের সক্রিয় নেতা। এলাকায় তিনি পাঞ্জা-ছক্কা নামে পরিচিত। মাঝে-মধ্যে কালো কালারের গাড়িতে করে বিভিন্ন লোকজনকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। তারা কখন যেত তা জানতেন না প্রতিবেশীরা। সর্বশেষ সহযোগীসহ সম্রাট ওই বাড়িতে আসলেও স্থানীয়রা জানতেন বাড়িতে মেহমান এসেছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, অভিযানের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। পরিবহন ব্যবসায়ী মনির চৌধুরীকে আমি চিনি না।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: