করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৬৪,৬১১
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

ইসলামী শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখছে দারুল উলুম মাদরাসা: আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়া

২৮ অক্টোবর ২০২০, ৪:১৪:০৬

নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরসরাই::
ইসলামি শিক্ষার প্রসারে ওয়ার্লেস দারুল উলুম মাদরাসা অবদান রাখছে। নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে ধর্মপ্রান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করেন মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়া।
মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব ও মাদ্রাসার উদ্যোক্তারা জানান, ২০১০ সালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ওয়ার্লেস নামক এলাকায়
বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক ও তাবলীগ জামাতের মুরব্বী একে এস এম মোস্তফা দ্বীনি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে ২৪ শতক জমি বায়তুছ সোবহান মসজিদ কমপেক্স প্রতষ্ঠিার জন্য দান করেন। পরবর্তীতে মায়ানী এলাকার কৃতি সন্তান ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর নাসির উদ্দিন তাবলীগের কাকরাইল মারকাজে মুরব্বিদের কাছে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেখান থেকে মুরব্বিদের কাছে এই জমির খোঁজ পেয়ে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রাম লাভ লেইন মারকাজে। এরপর জমির কাগজপত্র পেয়ে মোস্তফা সাহেবের সহযোগিতায় কাজ শুরু করেন। শুরুতে মাদ্রাসার পরিচালক হিসাবে তাবলীগের মুরব্বিদের মাধ্যমে নিয়োগ পান হাফেজ মাওলানা শোয়াইব।
এভাবে নাসির উদ্দিন নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ শুরু করেন। ভবন নির্মানের সাথে সাথে গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে পাঠদানের কাজ শুরু হয়। যোগাযোগ সুবিধার কারণে অল্প দিনে মাদ্রারাসার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মিরসরাই উপজলোর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজলোগুলো থেকে ছাত্র ভর্তি করানোর জন্য সন্তানদের নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। মাদরাসায় বর্তমানে ৩তলা একটি মসজিদ কমপ্লেক্স ও ২টি টিন সেটের পাঠদানের ঘর রয়েছে। সরকারী ভাবে কোন বরাদ্ধ না থাকায় স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে মাদ্রাসাটি। এখানে ৩ শতাধকি শিক্ষার্থীর পড়ালেখা, থাকা-খাওয়া ও রান্নার কাজ হচ্ছে প্রতিদিন। বর্তমানে শ্রেণী কক্ষ ও আবাসন সংকটের কারণে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছ না। মাদরাসার সীমানা প্রাচীর না থাকায় সমস্যা হচ্ছে, নতুন করে জমি ক্রয়, ভবন নির্মান, আসবাবপত্র সংকট রয়েছে।
বাংলাদেশ কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধিনে পরিচালিত মাদরাসাটিতে করোনাকালীন সময়েও কিতাব বিভাগ, হিফযুল কুরআন বিভাগ, নাজেরা বিভাগ ও নুরানী বিভাগে পাঠদান চালু রয়েছে। এছাড়া মাদরাসার এতিম ফান্ড থেকে এতিম শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়া ও পড়ালখোর খরচ বহন করা হয়। দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুফতী ও মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিন সাহেবের তত্তাবধানে মাদরাসা পরিচালনার জন্য মিরসরাই এর বিশিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামদের সমন্বয়ে একটি সূরা কমিটি রয়েছে। এছাড়া আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়াকে সভাপতি করে একটি উন্নয়ন কমিটি রয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমানের পিতা নুরুল আবছার বলেন, অত্র মাদরাসায় শিক্ষকগণ পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যাপারেও বেশ মনোযোগী। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকসুলভ আচরণ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে পড়ালেখা আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়।

মাদরাসার পরিচালক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মাদরাসায় ৪টি বিভাগে ৩ শতাধিক আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। বিগত ৯ বছরে শতাধিক হাফেজ কুরআন শরীফ হেফয করে বের হয়েছেন। আগামী বছর থেকে মাদরাসায় ছাত্রীদের জন্য নতুন বিভাগ চালু করা হবে। বর্তমানে মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে।
মাদরাসার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আজহারুল হক চৌধুরী নওশা মিয়া বলেন, কুরাআন-হাদীস তথা ইসলামী শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে দারুল উলুম মাদরাসা ব্যাপক ভূমকিা রাখছে। বর্তমানে জমি ও আবাসন সংকটের কারণে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি সমাজের বিত্তশালী ও সরকাররে সহায়তা কামনা করেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: