fbpx

উপকূলে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে জাটকা নিধন উৎসব

২৭ নভেম্বর ২০১৭, ৬:৪২:০০
 
 
স্টাফ রিপোর্টার: জালে জাটকা, নৌকায় জাটকা। এ যেন জাটকা উৎসব। আট  মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অবাধে জাটকা নিধন চলছে। তাও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে! আবার ধরা পড়া ওইসব জাটকা নদীতেই বেচাকেনা হচ্ছে। এ চিত্র উপকূলের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর।
রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় নৌকা (ইঞ্জিনচালিত)। জেলেরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে অবাধে জাটকা নিধন করছে। এ সময় ওই নৌকায় থাকা জেলে হারুন গাজী ও আলম রাঢ়ীর সঙ্গে কথা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিষিদ্ধ কারন্টে জাল দিয়ে কেন জাটকা নিধন করছেন, এমন প্রশ্নের করলে জবাবে তারা বলেন, ‘দুই দিন ওইচে আমরা বাউফলের মমিনপুর দিয়া আইছি। এই হানের মাছের ব্যবসায়ী অহিদুল গাজী আমাগোরে খবর দিয়া আনছে। হে কইছে গাঙে (নদী) অনেক মাছ পড়ে। সবাই কারেন্ট জাল বায় (মাছ ধরে), আমরাও বাই। কোস্টগার্ড আয় নাই, অন্য কেউ আয় নাই।’
সেখান থেকে পশ্চিমে গেলে মাঝ-নদীতে কয়েকটি নৌকা অবস্থান করে জেলেদের কাছ থেকে জাটকা কিনতে দেখা যায়। এর মধ্যে একটি নৌকার কাছে গেলে তিন ককসিট ভর্তি জাটকা চোখে পড়ে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জাটকা ক্রয় ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও কেন এ কাজ করছেন? এমন প্রশ্ন করলে উত্তরে ওই নৌকায় থাকা উপজেলার জুগিরহাওলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল গাজী বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে জাটকা কিনছি। প্রতি কেজি ১৩০ টাকা। পেপার-পত্রিকায় দিয়েন না, আমি আর কিনমু না।’
এভাবে শুধু বুড়াগৌরাঙ্গ নয়, উপজেলার আগুনমুখা, দারছিরা ও রামনাবাদ নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানায়, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে রফাদফা করে ওইসব নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে জাটকা নিধন চলছে। এসব জাটকা আবার নদীতেই বিক্রি করে দেয়া হয়। তারপর পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালাতে নদীতে নামলে  আগেই এ খবর পৌঁছে যায় জাটকা নিধনে মেতে ওঠা অসাধু জেলেদের কাছে। তাই ওই জেলেরা তখন পালিয়ে যায়। পরে প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে আবার জাটকা নিধন শুরু হয়।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ ৮ মাস জাটকা শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জাটকা ইলিশ আহরণ, বেচা-কেনা ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। মূলত ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সে.মি. কম আকারের ইলিশকে জাটকা বলা হয়।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তারেক আজিজের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবু হাসানাত বলেন, ‘আমরা একদিকে অভিযান চালালে অন্যদিকে জেলেরা জাটকা শিকারে নামে। তবুও অবহিত করায় আমরা বিষয়টি দেখব।’ সূত্র: যুগান্তর

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: