fbpx
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

একজন আলোকিত মানুষের অব্যক্ত কথা

২৩ আগস্ট ২০১৯, ১২:২৭:২১

মনজুর মোরশেদ ভূঁইয়া কনক:::
নিজের আলোয় আলোকিত হউন,,,,, অন্যের ( বাবা বা ভাইয়ের ) টাকায় আলোকিত হতে যাবেননা…তাহলে আপনি আলোর মর্ম বুঝবেননা ।।।

হ্যাঁ আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, আমার জিবনের গল্প অনেক বেদনাদায়ক।।। সোনার চামচ মুখে নিয়ে আমার জম্ম হয়নি,বড় কোন হাসপাতাল বা কোন নামীদামী ক্লিনিকে আমার জম্ম হয়নি…. আমার জম্ম হয়েছিল গ্রামের কোন এক পল্লীতে জরাজীর্ণ অর্থাৎ ২০০ বছর আগের এক জমিদার বাড়িতে টিন সেট এর ঘরে।।। স্বাধীনতা যুদ্ধে যখন দেশ লন্ডভন্ড, ঠিক তার কয়েকটা বছর পর আমার জন্ম।।।
ছোট কাল থেকেই লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলা ধুলা এবং তার পাশাপাশি পারিবারিক কর্ম করা আমার ধর্ম ছিলো।।। আমার হাতে রোপণ করা একশতের উপর বিভিন্ন প্রকার গাছ এখনো আছে ।।।
নবম শ্রেণি থেকে আমাদের সমাজের মসজিদের খতম তারাবি এবং ঈদে মিলাদুন্নবীর চাঁদা তুলার মাধ্যমে সমাজ কর্ম শুরু করি।।। পরবর্তীতে আমাদের সমাজের তৎকালীন সরদার মরহুম চুট্টু ভাইয়া এবং মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোশারফ স্যারের অনুপ্রেরণায় সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত করি।।।সপ্তম শ্রেণী থেকে আমি নিয়মিত রোজা রাখা শুরু করি এবং নামাজ আদায় করি… আলহামদুলিল্লাহ।।

আমি বরাবরই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলাম, আমাদের মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৮ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে দশম শ্রেণীতে আমার রোল নং ছিল ৩ ( তিন)।।। আমাদের সময় পুরো মিরসরাই থানাতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রথম বিভাগে পাশ করে, তার মধ্যে আমি একজন এবং মানবিক বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ৪ জন পাস করে…. বিজ্ঞান এবং মানবিক বিভাগ থেকে আমরা চারজন প্রথম বিভাগে পাস করি… ইলিয়াস মাস্টার, আমি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, শরিফ মোঃ মুনতাসীর, তাপস সরকার ।।।
উচ্চমাধ্যমিকে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমার পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এবং আমার বাবাকে রগ কাটার ভয় দেখিয়ে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি কুপরামর্শ দিলে আমার বাবা আমাকে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি করাতে অনীহা প্রকাশ করে।।।

পরবর্তীতে নিজামপুর কলেজে ভর্তি হই,,, কিন্তু রাজনীতি নামক এক দানব আমার জীবন লন্ডভন্ড করে দেই, অবশ্যই এই ক্ষেত্রে আমার ১০০% ভুল ছিলো,,, শিক্ষা জীবন থেকে দুইটি বছর নষ্ট হয়ে যায়,ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার শখ সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে যায়,,, পরবর্তীতে নিজামপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএসসি শেষ করি ।।।পরবর্তীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট এর উপর বিবিএ শেষ করি ।।।

2000 সালের 8 ফেব্রুয়ারি তে মাত্র ১৫০০ টাকা বেতনে কর্মজীবন শুরু করি,,, আমার কর্মজীবন ছিল খুবই কঠিন ,খুবই কষ্টের , খুবই বেদনাদায়ক,সব সময় ঘুমের ঘোরে কান্নায় বালিশ ভিজে যেত,,,, চট্টগ্রাম বন্দরে বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে ছুটে চলেছি সকাল থেকে মধ্যরাতে, কখনো কখনো কাটিয়ে দিয়েছি সারারাত চট্টগ্রাম বন্দরে,,,, একদিকে মশার কামড় অন্যদিকে পৌষ- মাঘ মাসের নিরবিচ্ছিন্ন কুয়াশাচ্ছন্ন ঠান্ডায় থর থর করে নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছিলাম কত রাত কত সময়।।।

যাদের সাথে সিএন্ডএফ এর কাজ শিখতে দিয়েছিল আমায় তারা কখনো আমাকে ঠিকভাবে কাজ শিখায় নাই, একমাত্র শাহাদাত ভাইয়ের অনুপ্রেরণাই আজকে আমার এই অবস্থা, স্যালুট শাহদাৎ ভাই ।।।

যার উছিলায় অর্থাৎ যার অফিস থেকে আমার কর্মজীবন শুরু সে মহান ব্যক্তি আর কেউ নয় তিনি হলেন আমার বাবার আপন মামাতো ভাই চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক তিন তিনবার চেয়ারম্যান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব কামাল উদ্দিন আহমেদ, চির কৃতজ্ঞ উনার প্রতি আমি,,, উনার ঋণ শোধ করার মতো অবস্থান বা সুযোগ কোনটাই আমার নাই, শুধু প্রাণভরে দোয়া করব উনার জন্য , আল্লাহ যেন উনাকে নেক হায়াত দান করেন-আমীন।।।
আমার জীবনে আমি ধান রোপন, ধান কাটা, ফসল ফলানো ,গরু ছড়ানো, গরুর ঘাস কাটা, গাছপালা লাগানো, মাঠ থেকে মাথায় করে ধান আনা, ছুটির দিনে বাড়ী ও এলাকার পোলাপান 15-20 জন মিলে পাহাড়ে গিয়ে পাহাড় থেকে মাথায় করে অনেকবার জ্বালানির জন্য শুকনো বাঁশ এনেছি,,,

কর্মজীবনের প্রথম দিকে অনেক কষ্ট করেছি, এমনকি ফেরিওয়ালার সাথে একই বিছানায় দিনের পর দিন রাতের পর রাত কাটিয়েছি,,, সারাদিনের ক্লান্তি সারাদিনের পরিশ্রম সবকিছু মিলিয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় এসে আলু ভর্তা, ডিম ভাজি , মসুরের ডাল খাবারের নিত্যসঙ্গী ছিল।।। ব্যাচেলর জীবনে অনেকের সাথে থেকেছি, আজ কারও সাথে কারো দেখা নেই, এটাই বাস্তবতা… এটাই জীবন।।।

ক্ষনিকের পৃথিবীতে ক্ষণিকের জন্য আমি এসেছি মেহমান হয়ে,, আমি মানুষকে ভালোবাসি,আমার জীবনে অহংকার শব্দটি কখনো ছিল না,হিংসে কি জিনিস তা আমি জানিনা, ইনশাল্লাহ এখনো নাই,,,, আমার সাথে খেটে খাওয়া মানুষের সম্পর্ক, আমার সাথে মসজিদ মাদ্রাসার খেদমতকারীদের সম্পর্ক, আমার সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক,,,, হিংসুটে কালোমনের মানুষ গুলো কদাকার থাকবে চিরকাল ।।।
যারা আমাকে ভুল বুঝেন , ভুল বুঝে পেছনে সমালোচনা করেন ,তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে দয়া করে সরাসরি আমাকে বলবেন আমি ইনশাআল্লাহ নিজেকে শুধরে নেব।।।।
আমার গল্প আমি বলবো,এতে লজ্জা কিসের ???জিবনের গল্প অকপটে স্বীকার করা আমার গর্ব।।।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: