করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৬৯৭ ◈ আজকে মৃত্যু : ১৬ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৭৩,১৭৩
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

কব্জি হারানো শ্রমিকলীগ নেতা জুয়েলের খুনের ঘটনায় জড়িত থাকায় ‘শিমু মীর ‘ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রেফতার -৫

৩০ নভেম্বর ২০২০, ৩:৫৫:৩০

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি জুয়েল প্যাদা সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর অসুস্থতার পর অবশেষে হাসপাতালে মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে তার স্ত্রীকে সন্ত্রাসীদের নাম পরিচয় ও গডফাদারের নাম বলতে সক্ষম হয়েছিলেন জুয়েল, এমনটাই দাবি জুয়েল প্যাদার স্ত্রী মণি বেগমের। তার পরিবারের দাবি, মাহমুদুল আলম টিটুর প্রতিপক্ষ ও জুয়েল প্যাদার প্রতিপক্ষরা সম্মিলিত হয়ে এ হামলায় অংশ নিয়েছে।

এক একান্ত সাক্ষাতকারে মৃত জুয়েল প্যাদার আপন বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর খোকন প্যাদা প্রতিবেদককে বলেন ‘ আমার ভাই মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে খুন করেছে। এবং কেটে নেয়া হয়েছে হাতের কব্জি । সেই কব্জি উদ্ধারে ব্যর্থ এখনও পুলিশ। আমার বিশ্বাস সে ‘কব্জি ‘ ভাড়ায় চুক্তি করা সন্ত্রাসীদের গডফাদারকে উপহার দিয়ে চুক্তি সমপন্ন করেছে ওই সন্ত্রাসীরা। তা যদি না হত, হাতটি ওখানেই ঘটনাস্থলে থাকতো। এরকম নৃশংসভাবে হত্যার পরও শুধুমাত্র গ্রেফতার দুজন আসামী। অথচ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিলেও তাতে গডফাদারদের আড়াল করতে সক্ষম হয়েছে সন্ত্রাসীরা। মূলত গডফাদারদের আড়াল করতেই স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে ধৃত সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও জুয়েল সন্ত্রাসীদের হামলার শিকারের চাদিন আগে ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল যাতে পৌর মেয়র নির্বাচন করার জন্য ‘মাহমুদুল আলম টিটু ‘কে সমর্থন করে লিখেছিল জুয়েল । তার চারদিনের মাথায় হামলা। স্থানীয় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আছে বলে আমাদের আশংকা । আমরা তদন্ত নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করছি। ‘

নিহত জুয়েল প্যাদার স্ত্রী মনি বেগম বলেন ‘ আমার স্বামী মারা যাওয়ার পূর্বে সকল সন্ত্রাসীদের নাম, ঠিকানা বলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদেরকে আসামী দেয়া হলেও বাদ দেয়া হয়েছে সেদিন হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও খুনের ঘটনায় জড়িত জুয়েল প্যাদাকে মোটরসাইকেলে বহনকারী টিপুকে। টিপু সম্পূর্ণ পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিল। আমার স্বামী আমাকে বলে গিয়েছেন হামলার সময় মোটরসাইকেল চালক টিপু দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখেছে। প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেনি। এবং আরও কিছু আলামত ও তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে সন্দেহ করছি। এছাড়াও নির্বাচন করার কথা ফেইসবুকে লেখার পর যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই এ হামলা ও খুনে জড়িত। ‘

এক প্রশ্নের জবাবে নিহত জুয়েলের স্ত্রী মনি বেগম ও ভাই খোকন মেম্বর অভিযোগ করেছেন ‘ ইউপি নির্বাচনের আগাম ইঙ্গিত দেয়াসহ মাদক ব্যবসায়ী অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শিমু মীরের সাথে জুয়েলের শত্রুতার নতুন এক মোড় সৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু জুয়েলকে শিমু মীর বেশ কয়েকবার ষড়যন্ত্র করে বিপদে ফেলতে চেয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জুয়েলকে জেল খাটাতে সক্ষম হয়েছিল শিমু মীর। এইসব বিষয় বিশ্লেষণ করলে এই খুনের পিছনে সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু মীরের হাত রয়েছে বলে বেশিই সন্দেহ জাগে। ‘

এদিকে, নিহত জুয়েল প্যাদার সেই আলোচিত ফেইসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি হাতে এসেছে প্রতিবেদকের। নিচে হুবহু সেটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল
‘ আসন্ন কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচন২০২১, উক্ত নির্বাচনে,, বাংলাদেশ ছাএলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির, সাবেক প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক, শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসৈনিক,, মাহমুদুল আলম টিটু কে,,,মেয়র হিসাবে দেখতে চাই

এদিকে আরেকটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেন নিহত জুয়েল একই দিন সেটিতে লেখা ছিল ‘টিয়াখালী আমার স্বপ্ন,,একে আমি সুন্দর ভাবে সাজাতে চাই,,আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে, ২নং টিয়াখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে, আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন চাই,,,,,,, মোঃ জুয়েল প্যাদা

দুটি লেখায় দেখা যায়, নিহত জুয়েল নিজেও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন এবং তার নেতা কুয়াকাটা পৌরসভা মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহমুদুল আলম টিটোর পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন ও জুয়েলের স্বজনদের মতে, জুয়েলের এই ফেইসবুকে স্ট্যাটাস সূত্র ধরে খুজলে আসল গডফাদার বের করা সম্ভব।

নিহত জুয়েল টিয়াখালী ইউনিয়নের ফারুক প্যাদার ছেলে এবং সে উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
ওদিকে, ধৃত আসামী তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিলেও আর কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ।

উল্লেখ্য , এলাকায় আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪ নভেম্বর রাতে একদল সন্ত্রাসীরা জুয়েল প্যাদাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। এ ঘটনায় ৫ নভেম্বর নিহত জুয়েল প্যাদার পিতা মো.ফারুক প্যাদা বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামী করে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত বসির চৌকিদার , সোহেল হাওলাদার নামে দু’জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: