কমছে না চালের পর ডাল ও ডিমের দর

১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৪:২৬:০৫

• নির্বাচনের আগে-পরে চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছিল
• চালের দর মিল পর্যায়ে কমলেও খুচরা বাজারে প্রভাব নেই
• গত সপ্তাহে মোটা ও মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম বেড়েছে
• ডিমের দাম হালিতে ৩ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় উঠেছে

চালের বাড়তি দরের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এল ডাল ও ডিমের দাম। খুচরা বাজারে মসুর, অ্যাংকর ও ছোলার দাম বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিমের দামও চড়া। ফলে চাপে পড়ছে গরিব মানুষ। তাদের অতিপ্রয়োজনীয় কয়েকটি মূল খাদ্যপণ্যের পেছনে ব্যয় বেড়ে গেছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে বাজারে চালের দাম তিন থেকে চার টাকা বেড়েছিল। গেল সপ্তাহে মোটা ও মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ডিমের দাম হালিতে ৩ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় উঠেছে। হাঁসের ডিমের হালি ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় উঠেছে।

অবশ্য বাজারে সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্য বেশ কম দরেই বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে ২০-৪০ টাকা কেজির মধ্যে। কাঁচা মরিচের কেজিপ্রতি দর ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁয়াজের দর কেজিতে ২০-৩০ টাকা।

নির্বাচনের আগে ও পরে সরবরাহে বিঘ্ন ও সরকারিভাবে সংগ্রহ শুরু হওয়ায় চালের দাম বেড়েছিল বলে জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। ১১ জানুয়ারি নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মিলমালিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে চালের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে।

ঢাকার বাবুবাজার-বাদামতলীর চালের আড়তমালিক কাওসার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সরু মিনিকেট চালের দর চার টাকা বেড়েছিল, এখন মিলগুলো এক টাকা কমিয়ে দাম বলছে। মাঝারি বিআর-৮ ও মোটা চাল তিন টাকা বেড়েছিল। তা-ও একই হারে কমেছে।

মিরপুরের দক্ষিণ মণিপুর এলাকার একটি অংশে নিম্ন আয়ের মানুষের বাস। সেখানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা, যা আগে ৩৬-৩৭ টাকা ছিল। ফলে ওই এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষকে মোটা চালে তিন টাকার মতো বাড়তি দিতে হচ্ছে।

মসুরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা মাঝারি দানা ও কানাডার মোটা দানার ডালের ক্রেতা মূলত সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে মোটা ও মাঝারি দানার মসুর ডাল কেজিতে ৮-১০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫-৬০ টাকা, মাঝারি দানা ৭০ টাকা ও সরু দানা মানভেদে ১০০-১২০ টাকা চান খুচরা বিক্রেতারা। অ্যাংকর ডাল এলাকাভেদে ৫০-৬০ টাকা কেজি চাওয়া হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ৫ টাকা বেশি। ছোলার দামও ৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৫ টাকা কেজি চাইছেন বিক্রেতারা।

অবশ্য ডালের অন্যতম আমদানিকারক চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, পাইকারি বাজারে দাম এতটা বাড়েনি। তাঁর তথ্য অনুযায়ী পাইকারি বাজারে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মসুর ডাল ও অ্যাংকর ডাল কেজিপ্রতি তিন টাকার মতো বেড়েছে। তিনি বলেন, অনেক দিন বিশ্ববাজারে ডালের দর ব্যাপক কম ছিল। এখন তা বাড়ছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: