করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৬৭,০২৪
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

করোনা আর নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে লোহাগড়ার মানুষ

৬ আগস্ট ২০২০, ১১:০৮:৫৫

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
করোনার প্রভাব মোকাবেলার পাশাপাশি নদ-নদীর ভাঙনে দিশেহারা
হয়ে পড়েছে লোহাগড়ার মানুষ। উজানের ঢল এবং লোহাগড়ায়
টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরু হয়েছে
ভাঙন। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের
প্রভাবে বড় বড় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে
তীব্র ভাঙন। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
অনেকের পাকা ধান, পাট, বাদামসহ হাজার হাজার বিভিন্ন
প্রজাতির গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে নদী ভাঙনে। ভাঙনে
ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে অন্যের
জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে।
মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় টুকু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন
পরিবার-পরিজন নিয়ে।
একদিকে করোনার প্রভাবে কাজ নেই অন্যদিকে নদী ভাঙনে
সম্পদ হারিয়ে দিশেহারা মানুষজন। যেখানে পরিবারে খাদ্যের
যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে আবার মাথা
গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে হচ্ছে। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। ভাঙন
রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান নদ-নদী তীরবর্তী ধানাইড়,
রামকান্তপুর, শিয়রবর, শালনগর, আমডাঙ্গা, আস্তাইল, বগজুড়ি,
কালনা এলাকার বাসিন্দারা।
লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের ধানাইড় গ্রামের
বাসিন্দা সবুজ শেখ (৩০), খন্দকার আজাদ হোসেন (৫৫), জামাল
শেখ (২৮), মাসুদ ভূইয়া (৬০), সাবান বেগম (৩৫) ও রিবা বেগম
(৫০) বলেন, গেল একমাসে মধুমতি নদীন ভাঙনে বাড়িঘরসহ
বিভিন্ন প্রজাতির গাছ যেমন- সুপারির, কাঁঠাল, মেহগুনি,

নারিকেল, আম, লিচু বাগান বিলীন হয়ে গেছে। এর সঙ্গে পাকা
ধান, পাট, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের জমি বিলীন হয়ে গেছে।
তারা বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই। এভাবে সংসার চলে
আমাদের। গেল তিন মাসের বেশি সময় ধরে করোনার প্রভাবে
তেমন কাজকর্ম নেই। এই অবস্থায় পেটের খাবার জোটাবো
নাকি থাকার আশ্রয় খুঁজবো। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে
মহাদুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। অনেকেই ৫-১০ বছরের জন্য অন্যের
জমি শতক প্রতি পাঁচশ টাকায় লিজ নিয়ে থাকছে। কেউবা
অন্যের দয়ায় কোনো রকমে আছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকরী
পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
জয়পুুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আখতার হোসেন জানান,
গত একমাসে মধুমতি নদীর ভাঙনে উপজেলার প্রায় পাঁচ
শতাধিক পরিবার ঘড়বাড়ি হারিয়েছে এবং প্রায় ৫০ একর ফসলি
জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙন রোধ করা না হলে উপজেলার
ধানাইড়, রামকান্তপুর, শিয়রবর, শালনগর, আমডাঙ্গা, আস্তাইল,
বগজুড়ি, কালনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা
রয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: