করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৬৯৫ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৭ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

করোনা পরবর্তী বাংলাদেশ : শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা

৯ মে ২০২০, ৩:০৪:১৩

মহামারী করোনা ভাইরাসে ( কোভিড-১৯) সারা বিশ্বের মানুষ সভ্যতার এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানুষ আজ ঘরবন্দি, পৃথিবী যেন এক মৃত্যুপুরী। ইতিমধ্যে বিশ্বে ২১০টির ও বেশি দেশে করোনা হানা দিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে এবং মারা গেছে প্রায় ২লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশেও করোনা হানা দিয়েছে সে মার্চের শুরু থেকে।অঘোষিত লকডাউন করা হয়েছে সারা দেশে। দেশের কলকারখানার চাকা ঘুরছেনা, স্কুল – কলেজ বন্ধ, অফিস – আদালতে তালা ঝুলছে আর অর্থনীতি স্তম্ভিত হয়ে রয়েছে। সকলের মনে একটা প্রশ্নই ঘুরছে, কেমন হবে করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র? কি হবে তার ভবিষ্যৎ?

মহামারীর দ্বিতীয় ধাপ দুর্ভিক্ষ। ইতিহাস আমাদের তাই বলে। ইতিমধ্যে করোনায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, বৈশ্বিক করোনায় পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মহামন্দার চেয়েও খারাপ হতে পারে।জেপি মর্গান, বলছে পরপর আগামী দুই প্রান্তিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিবে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ দেশেও এই বিপর্যয়কারী ঢেউয়ের আঘাত লাগতে শুরু করেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি খাত আজ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

রপ্তানিতে প্রভাব

বাংলাদেশে রপ্তানি আয় সাম্প্রতিক সময়ে এমনিতেই পড়তির দিকে ছিলো ৷ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দশমিক সাত নয় ভাগ প্রবৃদ্ধি কমেছে ৷ অব্যাহতভাবে কমছে পোশাক রপ্তানি৷ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র হলো এই পণ্যটির প্রধান বাজার৷ করোনা ভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে সেখানকার বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷ ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দায় পোশাক শিল্পের পণ্যগুলোর চাহিদা কমে যাবে গোটা ইউরোপে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও৷ যেহেতু বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৬২ ভাগ আসে ইউরোপ থেকে আর ১৮ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে৷ সেহুতু এর প্রভাব এদেশের গার্মেন্টস গুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন তারা এরই মধ্যে তারা চাহিদা কমে যাওয়ার আঁচ পেতে শুরু করেছেন৷ কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে , যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে শতকরা তিন দশমিক এক ভাগ বিক্রি এরই মধ্যে কমে গেছে এবং কমে যেতে শুরু করেছে ক্রেতাদের কার্যাদেশও৷

এছাড়াও চীনে কাঁকড়া, কুঁচে ইত্যাদি রপ্তানি বন্ধ হয়েছে, যার ক্ষতি দাড়িয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মতো। চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে নতুন ধস এসেছে, তাছাড়া ইটিপি সংকটে এই খাতে আগেই ধস ছিল, যদিও এই খাতের ফ্যাক্টরি তৈরির খরচ বেশি। সংকুচিত হয়ে এসেছে ওষুধশিল্প, পাট সুতা হোম টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস, সামুদ্রিক মাছ, প্রসাধনীশিল্প এবং পোলট্রিশিল্পে ও বিপর্যয় এসেছে। অতি শিঘ্রই যদি এ বিপর্যয় মোকাবেলা না করা যায় ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলার শঙ্কা রয়েছে।

রেমিট্যান্সে প্রভাব

বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। দেশের অর্থনীতিতে বেশিরভাগ সূচক নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যে ভাল করছিল রেমিট্যান্স৷ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ১০৪২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ ভাগ বেশি৷ কিন্তু গত ২ মাসে যার ভাটা পড়েছে কমছে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ।

বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে, সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক বা ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনমত আয় করতে না পারবেনা এবং দেশে পরিবারের কাছে আগের মতো টাকা পাঠাতে পারবেন না৷ তাই স্বভাবতই রেমিট্যান্স কমতে থাকবে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে৷ বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারাবিশ্বেই ২০ শতাংশ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় কমে যেতে পারে ।পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক আরো জানিয়েছে, চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি মজুরি কমে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার দারিদ্রের শিকার হবে।

করোনার প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে৷ এই পরিস্থিতি যে খুব সহসায় কাটবে এমন আভাস মিলছে না৷ কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ধীর হলে জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিক ভাবেই কমতে থাকে৷ তাছাড়া তেলের উৎপাদন কমিয়ে এনে বাজার সামাল দেয়ার বিষয়েও একমত হতে পারেনি সৌদি আরব ও রাশিয়া৷ এই অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোকে৷ আর বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের বড় অংশটাই কিন্তু আসে এই অঞ্চল থেকেই৷অন্যদিকে, গত মার্চ মাসের শেষভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী করোনাভাইরাসের ভয়ে কর্মস্থল ছেড়ে দেশে চলে এসেছেন। আবার যারা আছেন তাদের অনেকে বেতন পাননি।যারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন,তাদের কাজ বন্ধ বলে আয়ও বন্ধ।ইতিমধ্যে রেমিট্যান্সে এসবের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে আরো খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

বেকারত্ব বৃদ্ধি

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী আড়াই কোটি চাকরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) । তারা আরো জানিয়েছে, “একই সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ নতুন করে বেকার হবে, নয়তো তাদেরকে যোগ্যতার তুলনায় কম বেতনের চাকরিতে ঢুকতে হবে কিংবা আংশিক বেকার থাকতে হবে।তাছাড়া কাজ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে বেকার হয়ে নতুন করে দরিদ্রের তালিকায় ঢুকবে।“

বাংলাদেশেও এর প্রভাব ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দেশের পোশাক শিল্পে চাহিদা কমে গেলে, গার্মেন্টস গুলোতে কর্মী ছাঁটাই করে দিবে, মন্দা পরিস্থিতি সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেক ক্ষেত্রে কিছু গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। চাহিদা কমে গেলে দেশের অন্যান্য কলকারখানা গুলোতেও কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া বিশ্বের এ মন্দা পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বেন, তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন । এতে করে এক বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

অভ্যন্তরীন অর্থনীতি

এ দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকা শক্তি হলো রপ্তানি ও রেমিট্যান্স৷ যদি রপ্তানি আয় কমে যায়, তাহলে দেশের শিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া বা কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে৷ অন্যদিকে প্রবাসীরা টাকা পাঠানো যদি কমিয়ে দেয়, তাদের পরিবার দেশে আগের মত খরচ করতে পারবেন না৷ এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসা বাণিজ্যে উপর এবং কমে যাবে বেচাকেনা৷ আর চাহিদা কমে গেলে ভোক্তা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়বে৷
তাছাড়াও বিপাকে আছে সবজি, মৎস্য খাত ও দুগ্ধ খামারিরা । সমস্যায় পড়েছে দোকান মালিক, পত্রিকা-ছাপাশিল্প, রড–সিমেন্ট উৎপাদনকারী থেকে এভিয়েশন খাত। এই সবকিছুর ফলে বড় বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে ব্যাংক ও বিমা খাত। বিপণিবিতান, শপিং কমপ্লেক্স ও বিলাসপণ্যসহ জরুরি খাদ্য ও ওষুধ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারের ভোগ্যপণ্যের বেচাকেনা একেবারেই বন্ধ, এতে করে ভ্যাট আহরণ বিশাল ধাক্কা খেয়েছে। নির্মাণশিল্প সরকারে দেশজ উৎপাদনের একটা বড় খাত, করোনার প্রভাবে এ শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত। এতে করে মেগা প্রকল্পসহ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দীর্ঘায়িত হবে এবং ব্যয় বাড়ে যাবে । রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ খরচ, উচ্চমাত্রার দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতাজনিত সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হয়ে আর্থিক সংকট প্রকটথেকে প্রকটতর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পর্যটন খাতে প্রভাব

বাংলাদেশের পর্যটন খাতেও করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে চলা পর্যটন ভাটার কারণে এরই মধ্যে বাংলাদেশও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটনপ্রেমীরা অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘুরতে আসেন । কিন্তু এবার বছরের প্রথম থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা তাদের বুকিং ও ফ্লাইট বাতিল করেছেন। করোনা আতঙ্কে বিদেশী পর্যটকদের এদেশে আসা কমে যাবে। তাছাড়া দেশীয় ও অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যাও করোনাভাইরাসের প্রভাবে হ্রাস পাবে, যা পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। যার প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিদেশ থেকে পর্যটক আসা যেমন কমবে, তেমনি কমবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যাও।ফলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ।

অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে যেখানে বর্তমানে ১১ লাখেরও অধিক বসবাস করছে। রোহিঙ্গাদের এই সংখ্যা কক্সবাজারের স্থানীয়দের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং তাছাড়াও তারা সংখ্যায় ভুটান, মালদ্বীপের জনসংখ্যার থেকে ও বেশি। উন্নত দেশগুলো যেখানে নিজেদের নাগরিকদেরকেই সুরক্ষা দিতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের করোনার আঘাত মোকাবেলার মত অর্থ, সামর্থ্য ও অবকাঠামোসহ নানা ধরনের সীমাদ্ধতা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায় করোনার ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্যে অর্থের বরাদ্ধ কমে যেতে পারে। এমতবস্থায়, সামনের দিনগুলোতে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়াও আশঙ্কা করা হচ্ছে ‘করোনা পরবর্তী বিশ্বে’ চীন নেতৃত্বে আসবে।আর এমনটা হলে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরে যাওয়া ও আন্তর্জাতিক সুবিচার প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

এভাবে বাংলাদেশে করোনার আগের চেয়ে পরের সংকট তীব্র হতে পারে । বিশ্বমন্দার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আসতে পারে নাটকীয় পরিবর্তন । বিদেশী অনুদানসহ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে আর এসব কারণে সরকাররে কোষাগারে ও সবকিছুতে টান পড়বে। তখন রাষ্ট্র একশ্রেণিকে বাঁচাতে গেলে বঞ্চিত হবে অন্য শ্রেণী । বেড়ে যেতে পারে সামাজিক দুরত্ব ও অস্থিরতা। আইন শৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি পরিবর্তন হতে পারে রাজনীতির মাঠেও । তাই সরকারের উচিত হবে এখন থেকেই বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ ও সমন্বয়ে সুদূর প্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা, যাতে করে আসন্ন দুর্যোগ থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পায়।

লেখক, মোজাম্মেল হক
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: