ফাহাদ হোসেন হৃদয়

নোবিপ্রবিতে প্রতিনিধি ঃ

করোনা শনাক্তকরণে নোবিপ্রবি শিক্ষকের সফলতা

২০ মার্চ ২০২০, ৭:০৮:১৮

ফাহাদ হোসেন হৃদয়

বিশ্বের বর্তমানে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বর্তমান প্রচলিত রোগ শনাক্তের পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ৩য় বিশ্বের দেশগুলো সহ সারাবিশ্বের জন্য করোনা শনাক্ত একটি বড় চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক সেই সময়ে আলোর দিশা হয়ে, স্বল্প সময়ে ও অল্প খরচে করোনা শনাক্তের কিট আবিষ্কার করেছেন নোবিপ্রবি অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.ফিরোজ আহমেদ সহ ৩ জন বিজ্ঞানী।

এ বিষয়ে ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন ; এটা ভিন্ন পদ্ধতি, এর নাম হলো র্যাপিড ডট ব্লট। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় যেভাবে করা হয়, মোটামুটি এ পদ্ধতি ঠিকভাবে কাজ করে। ২০০৩ সালে বিশ্বে সার্স ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড.বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুরে গবেষণাগারে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ে এ পদ্ধতিটি আবিস্কার করেন। ” র্যাপিড ডট ব্লট ” পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা ; পরবর্তীতে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবেলা করে।

বর্তমানে প্রচলিত কিট, যেটি ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে সেটি ব্যয়বহুল এবং প্রয়োজন হয় দামি গবেষণাকেন্দ্র ও দক্ষ মানবসম্পদ।

উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ৩৫০ টাকায় ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত সম্ভব বলে উল্লেখ করেন এই গবেষক। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, ” গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫-১৫ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কিনা। এতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর সরকার ভ্যাটমুক্ত সুবিধা প্রদান করলে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বাজারজাত করতে পারব। তিনি আরো জানান, তারা মাসে ১ লক্ষ কিট উৎপাদন করতে সক্ষম। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রাথমিকভাবে আগামী মাসের মধ্যেই ১০ হাজার কিট সরবরাহ করতে পারবো।

ড. ফিরোজ আহমেদ বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে তিনি আইসিডিডিআরবিতে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: