fbpx
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

কলাপাড়ায় চম্পাপুর ইউনিয়নে চার সন্তানের জননী গণধর্ষণের ঘটনায় ৫ জনের নামে মামলা দায়ের

২২ অক্টোবর ২০১৯, ৫:৩২:৪৫

মোঃ পারভেজ কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নে চার সন্তানের জননী মোসাঃ চম্পা বেগম (৩৭) ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে ইউনিয়নের মাছুয়খালী গ্রামে শনিবার রাত ৯ টায় দিকে।ওই চার সন্তানের জননী মোসাঃচম্পা বেগম (৩৭) কলাপাড়া থানায় অভিযুক্ত মো: আদু মাতুব্বর, মনু মুন্সি, মো: শোয়ের খান, মো: বাচ্চু শরীফ ও মো: কাওছার মৃধাকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কলাপাড়া উপজেলার মাছুয়াখালী খেয়াঘাটে কাওসার ও জহিরুলের সাথে একটি জেলে নৌকার দাদন টাকা নিয়ে শালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে শনিবার রাতে পনের হাজার টাকা স্থানীয় শোয়েব খাঁনের নিকট জমা দেন জহিরুল দম্পতি। ওই টাকা দিয়ে স্বামী জহিরুল আমতলী উপজেলার টেপুড়া বাজারে আসেন এবং স্ত্রী চার সন্তানের জননী মাছুয়াখালী গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ওই আসামীরা তার মুখ বেঁধে একটি পরিত্যক্ত ছাড়া ভিটায় নিয়ে যায়। ওইখানে নিয়ে অভিযুক্ত মনু মুন্সি, বাচ্চু দুই হাত ও এক পা চাপিয়া ধরে, শোয়ের খান ও কাওছার রাস্তা পাহারায় থাকে এবং আদু মাতুব্বর জোরপূর্বে ধর্ষণ করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করে ওই নারী।

ধর্ষণে ওই জননী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।জহিরুল বাড়ী ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরে দুই ঘন্টা পরে স্বজনরা পরিত্যাক্ত ছাড়া ভিটা থেকে মুখ বাঁধা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।ওইদিন রাত ১২টার দিকে তাকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা আমতলী হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় ভর্তি করে। ১০ ঘন্টা পরে রবিবার সকালে তার জ্ঞান ফিরে। ওইদিনই চিকিৎসকরা তার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরন করেছে।আর ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে কলাপাড়া থানায় সোমবার সন্ধ্যায় ওই মামলাটি দায়ের করেন।চার সন্তানের জননী চম্পা বেগম বলেন,আমি বাড়ী যাচ্ছিলাম ওইসব সন্ত্রাসী দল আমার মুখ বেধে জোড় করে একটি পরিত্যাক্ত ছাড়া ভিটায় নিয়ে যায়।ওইখানে নিয়ে আদু মাতুব্বর আমাকে ধর্ষণ করে। তাদের নির্যাতনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।স্বামী জমিরুল ইসলাম বলেন, নলুয়াবাগীর কাওসারের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে আমি জাল নৌকার কাজে যাই। পারিবারিক সমস্যার কারনে আমি পুরো মাস কাজ করে আসতে পারিনি। এ নিয়ে শনিবার কাওসারের সাথে একটি শালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কাওসারের দেয়া দাদন বাবদ ১৫ হাজার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই টাকা স্থানীয় শোয়েব খানের নিকট দিয়ে আমি আমতলী টেপুরা বাজারে আসি এবং আমার স্ত্রীকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই। পথিমধ্যে আসামীরা আমার স্ত্রীর মুখ বেঁধে ধরে নিয়ে যায়। পরে একটি পরিত্যাক্ত ছাড়া ভিটায় নিয়ে ধর্ষণ করে। শনিবার রাত ১০টার দিকে ওই পরিত্যাক্ত ছারা ভিটা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। হাসপাতালে ১০ ঘন্টা পরে আমার স্ত্রীর জ্ঞান ফিরেছে। কলাপাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: