করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,২৫২ ◈ আজকে মৃত্যু : ২৪ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৯০,৯৫১

কারেন্ট পোকা দমনে কোমর বেঁধে নেমেছে কৃষি অফিস

২৮ অক্টোবর ২০২০, ৩:৫০:১৭

সাব্বির আহমেদ,রানীশংকৈল প্রতিনিধিঃ- রাতের অন্ধকারে কালোজীপ গাড়িতে মাইকিং চলছে, সম্মানিত আমন চাষী ভাইদের জানানো যাচ্ছে যে,বর্তমান আবহওয়ায় কারেন্ট পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনার ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকা দ্বারা আক্রমণ হলে সম্পূর্ণ রুপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং মারাত্নক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।

এছাড়া কোন রকম ফলন না পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য কারেন্ট পোকা দমন করতে হলে আপনার ধান ক্ষেত দু-হাত পর পর ফাকাঁ করে দিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক দ্বারা ধান গাছের গোড়ায় স্প্রে করে দিন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে আজই যোগাযোগ করুন।

এভাবেই কারেন্ট পোকা দমনে কৃষকদের পরামর্শে দিতে দিনের পর রাতেও গ্রামগঞ্জে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথসহ তার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়াও উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে পোকা আক্রমণের লক্ষণ ও দমনে স্প্রে করার নিয়মবালীর চিরকুট বিতরণ করছে উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ।

উপজেলার কাদিহাট এলাকার কৃষক দেলোয়ার জানান, তিন বিঘা ধানি জমিতে বর্ষণের পানি জমাট বেঁেধ ছিল। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পরই ধানে ব্যাপক কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথস্যারকে জানানো হলে তিনি নিজে এসে ধান ক্ষেতে কিভাবে স্প্রে করতে হবে তা আমাকে দেখিয়ে দেন। পরে আমি ধান ক্ষেতে স্প্রে করলে কারেন্ট পোকা দমন হয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূতে জানা যায়, এবার উপজেলায় ২১ হাজার ৪ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, উপজেলা জুড়ে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভবনা ছিল। কিন্তু ধান রোপনের পর থেকে লাগাতার ভারী বর্ষণের কারণে রের্কডবিহীন কারেন্ট পোকা আক্রমণ শুরু করে ধান ক্ষেতে। এদিকে ধান খেতে কারেন্ট পোকা দমনে কোমর বেঁধে মাঠে নামে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্টরা দিন রাত কৃষকের পাশে থেকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় বর্তমানে এ উপজেলায় কারেন্ট পোকা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কারেন্ট পোকা দমনে কৃষকদের সহায়তা দিতে আমি ও আমার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা- কর্মচারীরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বিশেষ করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে ধান ক্ষেত পরির্দশন করে যে ধান ক্ষেত আক্রমণ হয়েছে। তবে কৃষক বুঝতে পারেনি সে-সব ক্ষেত সনাক্ত করে স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়াও যারা গরিব পর্যায়ের কৃষক তাদের কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কীটনাশক স্প্রে’র সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: