রাইতুল ইসলাম

বার্তা প্রধান

কুষ্টিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৪০:২৮

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোপা আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কায় ছিলেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। তবে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এখন সব শঙ্কা কাটিয়ে উঠে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮২ হাজার ৮৬৭ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৩১২ হেক্টর জমিতে আমান ধানের চাষ হয়েছে। এদিকে, আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৩৭ মেট্রিক টন ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় এ বছর আমন মৌসুমে সদর উপজেলায় ২০ হাজার ৭৩০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ছয় হাজার ১১৯ হেক্টর, কুমারখালি উপজেলায় ১২ হাজার ৪৬০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৬৩৬ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় পাঁচ হাজার ৯২৫ হেক্টর ও দৌলতপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৪২ হেক্টর আমান ধানের চাষ করা হয়।

চাষিদের ঘরে ঘরে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ
দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। বিঘাতে ফলন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত। খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখব মনে হচ্ছে।’
খুদ্দআইলচারা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমের শেষের দিকে হঠাৎ কয়েক দিন আগে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও এবার ফলন ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসানের পর এবার ভালো দাম পাবো আশা করছি।’

এ মৌসুমে বাজারে আমন ধানের দাম ভালো পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা
কৃষক আতিয়ার জানান, তিনি এ মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। এবার অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম ও সেচ নিশ্চিত করতে পারায় ফল ভালো পেয়েছেন তিনিও।
কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমন ধান চাষে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আবাদ তদারকিও করা হয়েছে। তাই ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়াও কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। তাই দুর্যোগ বা রোগ-বালাই থেকে ফসল রক্ষা করতে তারা জানেন। আর কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা তো ছিলই।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: