প্রচ্ছদ / সম্পদকীয় / বিস্তারিত

মোজাম্মেল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,প্রতিনিধি

কৃষকের মাথায় হাত!

১৮ মে ২০১৯, ১:৩৪:৩১

“ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরি, রে ভাই,পাছায় জোটে না ত্যানা।বৌ -এর পৈছা বিকায় তবু
ছেইলা পায় না দানা।” – বেগম রোকেয়ার একথা যেন সবকালের সব কৃষকদের জন্যই যথোপযুক্ত। কৃষকদের নিষ্পেষিত জীবন যেন কোনো কালেই শেষ হবার নয়। এতো এতো আধুনিকতার ছোঁয়া, দেশের উন্নয়ন – কিন্তু সেই অভাবী কৃষক অভাবীই রয়ে গেল।

এবছর আবহাওয়া ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার পরও বোরো চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনে যে কৃষকের সাফল্যের হাসি থাকার কথা, সে কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

প্রতিমণ ধান উৎপাদন করতে যেখানে কৃষকের উৎপাদন হয়েছে ৭০০-৭৫০ টাকা, সেখানে প্রতি মণ ধানের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা। এতে করে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছেনা। এতে করে ঋণ করে চাষ করা কৃষকদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।

আমাদের দেশের অর্থনীতির অধিকাংশটাই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষকদের দূর্দশা পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।

ধানের বাজারে এখন ক্রেতা নেই। তাছাড়া ধানের সরকারি সংগ্রহ অভিযান ও শুরু হয়নি। এতে করে স্থানীয় আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে- যা কৃষকের পেটে লাথি মারার মতো অবস্থা। সরকার কর্তৃক ধানের দাম নির্ধারণে দেরী হওয়া ও ধানের এ কম দামের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

তাছাড়া কৃষক যদি ধান এখন বিক্রি না করে কিছুদিন পরও বিক্রি করতো, তাহলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতো। কিন্তু পাওনাদারদের তাগাদা, সুদের বোঝা, দিনমজুরের অগ্নিমূল্য, সংসারের খরচ – এসব কারণে ধান না বিক্রি করে কৃষকের সামনে আর কোনো পথ নেই।

ধানের এ কম দামে অনেক জায়গায় ক্ষোভ থেকে কৃষকের প্রতিবাদী আচরণ ও দেখা গেছে। দেশের অনেক অঞ্চলে কৃষক পাকা ধানের জমিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীরা ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকার যে পরিমাণ ধান ক্রয় করবে তা খুবই নগণ্য, এতে করে কৃষকদের সমস্যার বাস্তবিক কোনো সমাধান ও হবেনা।

বর্তমান বাংলাদেশ সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কৃষি বান্ধব সোনার বাংলার সপ্ন দেখে গেছেন। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছি এক্ষেত্রে ও সরকার তার সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষকদের এ সমস্যার বাস্তবিক সমাধান দিবে।

লেখকঃ মোজাম্মেল হক
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: