করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১২,১৬১

কয়দিন থাকি যেটে যাও সেটে সবাই খালি হাত ধুবার কয়

২ এপ্রিল ২০২০, ৭:২০:৫৩

কয়দিন থাকি যেটে যাও সেটে সবাই খালি হাত ধুবার কয়। বোগলত (কাছে) যাবার মানা করে। মুখত কাপড় নাই বলে বাড়িতও ঢুকবার দেয় না। ভিক্ষাও দেয় না। ঘরত কোন দানা পানি নাই। আগত ভিক্ষা করি যা পাইছো তা খায়া দিন গেছে। এখন ভিক্ষা চাওয়ার গেলে দূরত থাকবার কয়। এইদন (এমন) চলছে না খায়া মরা ছাড়া মোর উপায় নাই। কথাগুলো বলছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মালতী রাণী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি কাবিলা পাড়ায়। কান্দির বাজারের সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায় একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করেন।

তিনি বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন, সবাই খালি কয় বাড়িত থাকি বাড়া যাবার নয় বড় অসুখ ধরবে। মোর বুঝি এবার মরণ হয়। তিন দিন থাকি (থেকে) ঘরত খাবার নাই। অসুখ শরীর নিয়া বাড়িত থাকি বাড়বার (বাহির) পাম না। ভিক্ষা না করলে কদিন আর না খায়া বাঁচিম। কাইও (কেউ) একনা খাবার দেয় না।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জানা যায়, মালতী রাণীর স্বামী সুটকু দাস মারা গেছে ১০ বছর আগে। দুই ছেলে বিয়ে করে পৃথক হয়েছেন। ছেলেদেরও অভাবের সংসার। তাই ভিক্ষাবৃত্তি করেই তার সংসার চলে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ যখন ঘরে থাকছে তখন জীবন বাঁচার তাগিদে মালতী রানী ঘুরছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। এক বেলা খাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে সবার কাছে। তবুও মিলছে না কোন সাড়া। সত্তরোর্ধ্ব বিধবা মালতী রাণীর ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোন সহযোগিতা। এমনকি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ডও মেলেনি।

মালতী রাণীর প্রতিবেশী অতুল চন্দ্র বলেন, মালতী রানীর ছেলেরাও হতদরিদ্র। সরকারের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘর তুলে থাকে। ভিক্ষা করে জীবন চলে মালতী রাণীর।

স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, সরকারিভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থাকলেও মালতী রাণী কোন কিছুই পায় না।

কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন, বরাদ্দ পেলে মালতী রানী ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: