করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৩,৪৮৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৪৬ ◈ মোট সুস্থ্য : ৮০,৮৩৮

খেজুরের রস ডেকে আনতে পারে মৃ’ত্যু

২০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩৪:৪৬

ত্রিশাল সংবাদদাতা:
চারদিকে শীতের আবহ টের পাওয়া যাচ্ছে। শীতের সাথে খেজুরের রসের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শীতের সকালে খেজুরের রসে চুমুক দিয়ে নিজেকে সিক্ত করতে সকলেই উন্মুখ হয়ে থাকে। শীতের বার্তায় রাজধানীসহ সারাদেশে শুরু হয় খেজুর রস খাওয়ার উৎসব। খেজুরের কাঁচা রস সবাই পান করে থাকে। কেউ কেউ শহর থেকে ছুটে যান গ্রামে বাড়িতে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার জন্য। আপনি কি জানেন? এই কাঁচা রসই হতে পারে আপনার মৃ’ত্যুর কারণ! আসছে শীতে খেজুরের রস থেকে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, নিপাহ ম’রণব্যা’ধি।

তাই সতর্কতা ও সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে খেজুরের রস ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। নিপাহে আক্রান্তের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও এতে মৃ’তের হার বেশি। যা প্রায় ৭০ শতাংশ। নিপাহের এখন পর্যন্ত কোনো টিকা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এই রোগ নিপাহ নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। নিপাহে আক্রান্ত হওয়ার মূল উৎস খেজুরের রস। খেজুরের রস গাছের মধ্যে হাঁড়িতে সংরক্ষণের সময় বাদুড় ওই রস পান করলে এবং পরে রসের মধ্যে তার লালা বা প্রসাব থেকে রস সংক্রামিত হয়। ওই রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। বাদুড়ে খাওয়া থেকে খেজুরের রসকে রক্ষা করা গেলে নিপাহ হবে না। বাদুড়ে খাওয়া ফল থেকেও নিপাহে আক্রান্ত হতে পারে। অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শ এলেও এ রোগ ছড়ায়। রো’গীর গামছা, বিছানা বা কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করলে, তারও নিপাহ হতে পারে।

আমাদের দেশে দেখা গেছে, মৃ’ত রো’গীর মাধ্যমেও এই রোগ ছড়ায়। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত খেজুরের রস খাওয়ার ছয়/সাত দিন পর নিপাহে আক্রান্ত হয়। আর আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিপাহ ছড়াতে সময় রাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। নিপাহে মস্তিষ্কে ইনফেকশন ছাড়াও রো’গীর শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও মাথাব্যথা হয়। মালয়েশিয়ায় নিপাহে মৃ’ত্যু হার ৪০ শতাংশ হলেও আমাদের দেশে মৃ’ত্যু হার ৭০ শতাংশ। দেখা গেছে আমাদের দেশের নিপাহ ভাইরাস শক্তিশালী। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘খেজুরের রস ফুটিয়ে পান করলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঘটনা ঘটে জানুয়ারি থেকে মার্চে। তাই আমরা ধরেই নেই খেজুরের রস যেহেতু ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া যায়, সেখান থেকে নিপাহে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময়ে খেজুরের রস বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কাঁচা খেজুর রসের পরিবর্তে জ্বাল দিয়ে রস খাওয়াটাকেই উৎসাহিত করতে হবে।’ আইইডিসিআরর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. শারমীন সুলতানা বলেন, ‘নিপাহ একটা ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস ফলাহারি বাদুড় থেকে ছড়ায়। এর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর, মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান ও শ্বাসকষ্ট হওয়া। এজন্য কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া এবং কারো কাছে কাঁচা খেজুরের রস বিক্রি করা উচিত নয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। নিপাহর কোনো চিকিৎসা নেই।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: