করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৭৩,৬৭৬

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত লোহাগড়ার গাছিরা

১১ নভেম্বর ২০২০, ৯:৪৫:০০

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

বেশ কিছু দিন থেকেই ভোর রাতে অনুভূত হচ্ছে শীত শীত ভাব। আর এই শীতের আগমন বার্তায় শীতকালীন অন্যান্য দ্রব্যের সাথে খেজুর রস সংগ্রহ করতেও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গাছিরা। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এখন চোখে পড়ার মত। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য লোহাগড়া উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিক ভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। গ্রামীন জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইট ভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই।

এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন সময়ে গ্রামীন পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচা ল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালী তৈরি করতেন। যার সাধ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক সময় সেই আড়পাড়া / বাবরা এলাকা থেকে গাছিরা এসে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত। এখন গাছ কমে যাওয়ায় তাদের আগমনও অনেক কমে গেছে। এলাকার গাছিরাই বর্তমানে এলাকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকে। উপজেলার বাবরা গ্রামের গাছি গোলাম মোস্তফা শেখ বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের এলাকায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। আমরা কৃষি কাজের অবসর সময়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করে থাকি। এ রস থেকে নিজ বাড়িতেই আমাদের নারীরা গুড় তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন। তাই বাড়তি ঝামেলা আমাদের পোহাতে হয় না।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: