fbpx

রাকিবুল ইসলাম

গলাচিপা প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য ঝু্কিতে আছে প্রায় লক্ষাধিক লোক!

গলাচিপার লোকালয়ে ইটভাটা ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি!!

২১ এপ্রিল ২০১৮, ১২:২৫:২৪

স্বাস্থ্য ঝু্কিতে আছে প্রায় লক্ষাধিক লোক!
গলাচিপার লোকালয়ে ইটভাটা
ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি!!

রাকিবুল ইসলাম, গলাচিপা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ভাবে ইটভাটা স্থাপন করায় হুমকির মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও ফসলি জমি। গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নে একটি, রতনদী তালতলীতে একটি, চরবিশ্বাসে একটি, চরকাজলে একটি, গজালিয়ায় একটি, কলাগাছিয়া একটি, বকুলবাড়িয়ার পাতাবুনিয়া গ্রামে একটি ও চৌরাস্তায় ২টি, গোলখালী একটি নিয়ে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অ লের লোকালয়ের ফসলি জমিতে ছোট বড় মোট ১০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক লোকের বাস। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা না মেনে ইটের ভাটা গড়ে তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। বেশীরভাগ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, ফলে এসব এলাকার পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ইটভাটার বিরূপ প্রভাব পড়েছে সাধারণ কৃষক, শিশু-বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী মা এবং গাছপালার উপর। জানা গেছে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য লোকালয় ও কৃষি জমিতে ইটভাটাসহ শিল্প কারখানা না করার জন্য বারবার আহ্বান জানানোর পরেও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ হচ্ছেনা বরং নতুন করে ফসলি জমিতে আরো ইটভাটা নির্মাণ করার হিরিক পড়েছে। বিশেষ করে চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামে সালেহা খাতুন দাখিল মাদ্রাসা ও উত্তর চরবিশ্বাস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন তুলফে আলী শিকদারের পুত্র খলিল শিকদার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, কৃষি অফিসের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া পুরোদমে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।জ¦ালানি হিসাবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের জন্য গ্রাম থেকে অবাধে গাছ কেটে স্তুপ করে রেখেছে।এ ছাড়াও ইট পোড়ানোর কাঁচামাল ইটভাটায় আনা নেয়ার কারণে প্রধান সড়কটি খানা খন্দে ভরে গেছে, প্রায়ই মোটর সাইকেল, টমটম, ট্রাক্টর দূর্ঘটনায় সম্মুখিন হয়। ইটভাটায় যখন ইট পোড়ানো হয় তখন এলাকায় থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উত্তর বড় শিবা মেসার্স ভাইভাই ব্রিক্স এর ইট বানানোর কাজ পুরোদমে চলছে। চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের শিকদার ব্রিকফিল্ডে ইটপোড়ানোর কাজ চলছে। এ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, এ এলাকায় ইটভাটা নির্মাণ হওয়ায় যেমনি ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে তেমনি পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটছে। পাশাপাশি ফসলেরও মারাতœক ক্ষতি হচ্ছে। ইট পোড়ানোর সময় ধোয়ার গন্ধে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় অনেক ব্যঘাত হচ্ছে। ভুক্তভোগি মো. অহিদুল বলেন, সে নিজে গত ৩ জানুয়ারী ২০১৮ ইং তারিখে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌছিফ আহমেদ কাছে আবেদন দিয়েছেন তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সির উপর দায়িত্ব দেন। একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব মোটা অংকের একটা টাকা পেয়ে থাকেন তবে তা তিনি অস্বীকার করেন। দরখাস্ত খানা চেয়ারম্যানের কাছে জরুরী ভিত্তিকে পাঠালেও অদ্য পর্যন্ত ইট ভাটা সরাননি। গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সি জানান, বাদী ও বিবাদী তারা উভয় আপোষ হয়েছে। তবে কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলতি বছরের যে কোন সময় সরিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান ব্যস্ততার কারনে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: