করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৫৮৪ ◈ আজকে মৃত্যু : ১৬ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৭৫,০৭৪

গাভীর খামার করে স্বাবলম্বী অধীর

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৫:২৯

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের ইতনা গ্রামের অধীর কুমার ভদ্র কৃষি কাজ করেন। কিন্তু তিনি এখন নিজেই স্বাবলম্বী এবং অনেক অর্থের মালিক। তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন গাভীর খামার করে। তার খামারে এখন বহু মানুষ দিনভর ভিড় করছেন। অধীর কুমার ভদ্র ২০১৭ সালে নড়াইল জেলার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় তার চোখে পড়ে একটি গাভীর খামার। তখনই তার মাথায় আসে নিজেই একটি গাভীর খামার করবেন। এরপর তিনি স্ত্রী সুমিতা রানী ভদ্রকে সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়েন সেই কাজে। অধীর কুমার ভদ্র এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , ২০১৭ সালে ৫টি ফ্রিজিয়ান গাভী নিয়ে শুরু হয় তার খামারের কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত সেই গাভীই তাকে দুধে-ভাতে সম্পদশালী করে তুলেছে। এখন অধীর কুমার ভদ্র ৮টি গাভী ও ৪টি বাছুরের মালিক। কাঁচা ঘাসের চাহিদা মেটাতে বাড়ির পাশে ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন নেপিআর ঘাস। সেই ঘাস থেকে ৮টি গাভী ও ৪টি বাছুরের খাবার হয়ে যায়। পাশাপাশি অবশ্য দানাদার খাদ্য খৈল, ভুসি ও ক্যালসিয়াম ওষুধ খাওয়াতে হয়। অধীর কুমার জানান, তিনি বর্তমান ৫০/৫৫ টাকা দরে দৈনিক ৫০ লিঃ দুধ বিক্রি করছেন। তার মাসিক খরচ হয় গড়ে ৪০ হাজার টাকা। দুধ বিক্রি করে মাসিক আয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, বছরে ৩টি বাছুর বিক্রি করেন। প্রতিটি বাছুর ৭০/৮০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেন। শুধু গরু পালন করেই থেমে নেই তিনি। তিনি কৃষি কাজ করছেন। তিনি এই আয়ের টাকা দিয়ে দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। বড় ছেলে এইচ এস সি প্রথম বর্ষের ছাত্র। আর দ্বিতীয় ছেলে ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র। এই দুই ছেলেও গাভীর খামারের কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করে।

অধীর কুমার ভদ্র জানান, গরু পালন করার মূল হচ্ছে ধৈর্য ও পরিচর্যা। খামার করেই আমি ঘুরে দাড়িয়েছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন অধীর কুমার ভদ্র। তিনি মনে করেন একটি ঘরে যদি দুইটি গাভী পালন করে কেউ তাহলে ওই ঘরের অভাব দুর হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৬৫১টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন ৬০টি এবং নিবন্ধন ছাড়া ৫৯১টি খামার।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিন্নু রাইন বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে জীবনে সফলতা আসে, তার উদাহরণ। আমরা সবসময়ই থামারীদের পাশে আছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা সবসময়ই খামারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী খামার গুলো পরিদর্শন করছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: