করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪০৭ ◈ আজকে মৃত্যু : ৫ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৯৬,১০৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

গৃহকর্ত্রীকে নির্যাতন করে পালানো গৃহকর্মী রেখা ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রেফতার

২১ জানুয়ারি ২০২১, ৮:১৫:৫৩

মালিবাগের বৃদ্ধা গৃহকর্ত্রীকে পৈশাচিক নির্যাতন করে পালানো গৃহকর্মী রেখা অবশেষে ধরা পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ে। মামার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে এসে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বুধবার গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। গভীর রাতে শাহজাহানপুর থানার একটি দল স্থানীয় রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী থানার সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করে।

রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী থানার সহকারী পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘটনার পর প্রথমে ডেমরায় আশ্রয় নেন রেখা। এরপর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে যান ঠাকুরগাঁওয়ে মামার বাড়িতে। পরে রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী থানার সীমান্তবর্তী কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আমাদের সহযোগিতায় গ্রেফতার করেন ঢাকার শাহজাহানপুর থানার ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

পুলিশ সূত্র জানায়, চুরি করা টাকার মধ্যে এক লাখ টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছেন তিনি। উদ্ধার করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গৃহকর্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনার পর ঢাকা থেকে বার্তা পেয়ে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। বুধবার গভীর রাতে বিশেষ টেকনোলজির মাধ্যমে ঢাকা থেকে আগত একটি পুলিশের টিম বালিয়াডাঙ্গী থানার সীমান্তবর্তী কাশিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রেখাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

রেখার মামা কফিল উদ্দিন ও মামি জানান, রেখাদের আদি বাড়ি ছিল জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার বড় পলাশবাড়ি গ্রামে। কিন্তু, রেখার বাবা-মা আগেই বাড়িঘর বিক্রি করে ঢাকায় চলে যান।

জানা গেছে, ঢাকায় রেখার বোনকে আটক করে তার মাধ্যমেই চিনে চিনে ঘটনাস্থল চিকনমাটির কফিল উদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছতে সক্ষম হয় পুলিশের তদন্ত দল। সেখান থেকে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রেখাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তারা।

এদিকে রেখাকে ধরতে কেবল পুলিশই নয়, র‌্যাব-১৩ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি) ঠাকুরগাঁও শাখাও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানান পিবিআইর ঠাকুরগাঁওর এএসপি রেজাউল ইসলাম। রেখা যেখানে ধরা পড়েন সেই রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গীর বাসিন্দারা ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হলে তার ব্যাপারে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বালিয়াডাঙ্গীর বড় পলাশবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, এই ভয়ংকর অপরাধী যতই আমাদের গ্রামের হোক, তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

উল্লেখ্য, এক বছর আগে বিলকিস বেগমের মেজো মেয়ে মেহবুবা জাহান বুলবুলির বাসায় কাজ শুরু করেন রেখা। গত ৭ জানুয়ারি কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যান রেখা। ১৬ জানুয়ারি সার্বক্ষণিক থাকার কথা বলে ফিরে আসেন ওই বাসায়। এর দুদিন পর বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে গৃহকর্ত্রী বিলকিস বেগমকে নির্মম নির্যাতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ টিভি ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান রেখা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: