করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭২১,৪৩৫

গোলপাতা আহরনের নামে সুন্দরবনে মূল্যবান বনজ সম্পদ লুট!

১৬ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৫:৫০

মাসুম বিল্লাহঃ
সুন্দরবনে বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ব্যবসায়ীরা তাদের নৌকাগুলোর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বাড়িয়ে বাড়তি অংশ যুক্ত করে (মলম) তৈরি করে সুন্দরববনের গোলপাতা আহরনের নামে নৌকার তলদেশ এবং নৌকার উভয় পার্শে¦ ভারসাম্য রক্ষার অজুহাতে ঝুলবেঁধে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী, গেওয়া, গরান সহ নানা প্রজাতির হাজার হাজার মন গাছ লুটে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার চালান নিয়ে গভীর বন থেকে লোকালয়ে ফিরে এসেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নিয়ম অনুযায়ী কোন ধরনের বনজ সম্পদ আহরন সম্পুর্ন নিষিদ্ধ থাকলেও বাওয়ালীরা তা উপেক্ষা করলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, এ বছরের গোলপাতা আহরন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী মোটা অংঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ব্যবসায়ীদের নৌকাগুলোতে কোন প্রকার তল্লাশি না করে উল্টো সুন্দরবনে প্রবেশরত বাওয়ালীদের সহয়তা করেছেন। তাছাড়া গোলপাতা আহরনের ক্ষেত্রে চলতি বছর কেবল মাত্র বনের চাঁদপাই রেঞ্জ হতে গোলপাতা সংগ্রহের জন্য ব্যবসায়ীদের অনুমতি দেওয়া হলেও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে পুর্ব-বনের অভায়রন্য এলাকা হিসেবে খ্যাত শরনখোলা রেঞ্জের-মরা ভোলা, ধাবড়ী, আড়াইবেকী ও টাকার খাল সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গোলপাতা আহরনের পাশাপাশি সুন্দরবন হতে নানা প্রজাতির শত শত মন গাছ সহ মুল্যবান বনজসম্পদ পাচার করে নেওয়ার সুযোগ করে দেন ব্যবসায়ীদের।

উপজেলার দক্ষিন রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা গোলপাতা ব্যবসায়ী ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. আফজাল হোসেন চাপরাশি বলেন, সম্প্রতি গোলপাতা আহরন মৌসুম শেষ হয়েছে কিন্তু সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জে এ বছর পাতা আহরনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু তার পরেও সংশ্লিষ্ট (এসিএফ) সাহেব অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীদের শরনখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন নিষিদ্ধ এলাকা হতে গোলপাতা কাটার সুযোগ দেন। এ সুযোগে বাওয়ালীরা নানা প্রজাতির শত শত মন গাছ কর্তন করে নেয় এবং নৌকাগুলো জঙ্গল হতে বেরিয়ে আসার সময় বনরক্ষীরা তেমন চেক না করায় সবাই সাধসন্ধ্যে জঙ্গল হতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন।

অপরদিকে নাম গোপন রাখার শর্তে, সুন্দরবন সহ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (সিএমসির) বন সংলগ্ন শরনখোলা এলাকার এক সদস্য বলেন, শরনখোলা রেঞ্জের (এসিএফ) জয়নাল স্যার যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়মে নিমজ্জিত হয়ে পড়েন। বন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা চান্দু , ইউছুপ ও আলম ও অসাদুল মাতুব্বর সহ তার পছন্দের কতিপয় লোককে ব্যাবহার করে সুন্দরবনে নানা অপরাধ করতে উৎসাহ যোগান। চলতি বছরে শরনখোলা রেঞ্জে গোলপাতার পাশ না হলেও তিনি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের বনের বিভিন্ন এলাকা থেকে গোলপাতা সহ নানা প্রজাতির গাছ কর্তনের সুযোগ করে দেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা নানা অনিয়ম করে গোলপাতা আহরনের অন্তরালে বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ে বোঝাই নৌকাগুলো (এসিএফের) নাকের ডগা থেকে বেরিয়ে গেলেও তিনি নৌকাগুলো তদারকি করেননি। নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীনের দায়িত্ব থাকলেও রহস্যজনক কারনে তিনি ও বগী ষ্টেশন কর্মকর্তা এ ক্ষেত্রে নিশ্চুপ ছিলেন। এছাড়া বনরক্ষীদের কেউ নৌকা তল্লাশী করতে চাইলেও তিনি তাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।
অপরদিকে, সুন্দরবন সহ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (সিএমসির) শরনখোলা শাখার সহ-সভাপতি ও উপজেলা কৃষকলীগ নেতা এম ওয়াদুদ আকন বলেন, নানা দুর্যোগের সময় সুন্দরবন আমাদের আগলে রাখে, সুতারং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য বনকে কোনো ভাবে যেন ধ্বংস করা না হয় সে বিষয়টিকে সবার গুরুত্ব দিতে হবে।
চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, শরনখোলা রেঞ্জে গোলপাতা আহরনের কোন অনুমতি এবার ছিল না। তার পরে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখ জনক। তবে, আমার রেঞ্জে তদারকির ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি ছিল না। তার পরেও নজর এড়িয়ে বাওয়ালীরা হয়তো কিছু জ্বালান কাঠ নিতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং বলেন, সুন্দরবনে কখন কি হয় তার জবাব কোন সাংবাদিকের কাছে দিতে আমি বাধ্য নই। আমার রেঞ্জের সব কিছু বন-বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা জানেন। তাছাড়া পত্রিকায় লিখলে আমার কিছুই হবে না বলে সংযোগটি বিছিন্ন করে দেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: