করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৬৯৫ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৭ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরায় আমচাষিদের সর্বনাশ

২১ মে ২০২০, ১১:৪৭:৩৮

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা: গাছে গাছে ঝুলছিল কাচা-পাকা আম, সেই সাথে দুলছিল চাষির স্বপ্ন। ক’দিন পরেই আম পাড়ার কথা ছিল। আমের রাজধানী সাতক্ষীরায় আম চাষির সেই স্বপ্নের জালে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। সাতক্ষীরায় একটি গাছেও আম নেই। সব ঝরে গেছে ঝড়ে। এতে করে চাপা কান্না বিরাজ করছে আমচাষি ও বাগান ব্যবসায়িদের মধ্যে। মহামারি করোনার কারণে আমের সাম্রাজ্য সাতক্ষীরার আম কোথাও পাঠাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এমন সময় সাতক্ষীরা উপকূলে প্রবল শক্তিতে আঘাত হানলো ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলা আম চাষিরা। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আম বাগানে আম চাষ হয়েছিল। ১৩ হাজার ৯৯ জন চাষী আম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে আরো কয়েক হাজার আম চাষী রয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ হাজার মেট্রিক টন। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আম পাড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তার আগেই পাকা আম বাজারে উঠতে শুরু করেছিল। জানা যায়, ঝড়ে পড়া কাঁচা আম ৫ থেকে ১৫ টাকা পাইকারী দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে ৩১ মে থেকে হিমসাগর আম বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রশাসন। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরার আম চাষিরা সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। জেলার প্রায় লক্ষাধীক পরিবার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আম চাষের সাথে যুক্ত। পরিবারিক আম চাষের পাশা-পাশি বাণিজ্যিকভাবে জেলায় আম চাষ হয়ে আসছে ঐতিহ্যগতভাবে। শুধুই তাই নয়, বর্তমান রাহধানীর বেশিরভাগ বাজারগুলিতে প্রধানত এই জেলার আম সরবরাহ হয়। ফলে এই জেলার অর্থনীতির অন্যতম উৎস হচ্ছে আম। হিমসাগর আম ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রপ্তানি হয়ে আসছে গত কয়েক বছর ধরে।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। সাতক্ষীরা আম চাষি জালেম খা ১০টি বাগানে তার ১৫ বিঘা জমিতে ২০০-১৫০টি আম গাছ আছে। এসব আম বাগানের ইজারা ও পরিচর্যা করতে ঋণ নিয়ে খরচ করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। এখনও পরিচর্যা করেছেন। আশা করেছিলেন সাড়ে ছয় লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে তার বাগান তছনছ হয়ে গেছে। গাছে কোন আম নেই। কলারোয়া থেকে প্রভাষক আরিফ মাহমুদ বলেন, কলারোয়ার প্রত্যেকটি আমবাগান ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। একটি গাছেও আর আম নেই। আম চাষিদের মধ্যে বিরাজ করছে বোবা কান্না। পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আম চাষি নূরুল আমিন বলেন, ১৭ বিঘার আম বাগান ঝড়ের আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে।ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে তার বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে এবছর বিদেশে আম রপ্তানি করার সুযোগ নেই। ঝড়ে জেলায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: