করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,০১৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৬,৪৪২

চিকিৎসকের বিকল্প তৈরি হচ্ছে!

২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৩০:৫৪

ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসা দুনিয়ায় সত্যিই বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, পুরোনো ব্যবস্থার গুরুত্ব অচিরেই ফুরিয়ে যাবে। অ্যাপলের একটি ঘড়ি বা স্মার্টফোন এমআরআই অথবা এক্স-রের গুরুত্ব প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। এমআরআই বা এক্স-রে আজকের দিনে এসেও যথেষ্ট কার্যকরী। আর এ ধরনের কিছু অ্যানালগ প্রযুক্তির ডিজিটাল ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এখনো বেশ জটিলই। তারপরও স্বাস্থ্য-বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য জানতে চিকিৎসকের দরজায় কড়া নাড়বার প্রয়োজনটি নিঃসন্দেহে সংকুচিত হচ্ছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায়।

অ্যালফাবেট স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায় যাত্রা করেছিল ভেরিলি ও ডিপমাইন্ডের মাধ্যমে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অ্যালফাবেট ইতিমধ্যেই গড়ে তুলেছে চিকিৎসাসেবার বিরাট বাজার। সেখানে চারটি বড় হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে ডিপমাইন্ডের, যেখানে স্ট্রিম নামে একটি অ্যাপ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া যায়। একইভাবে ভেরিলি কাজ করছে মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার (এনএইচএস) সঙ্গে। গত বছরের মে মাসে আমেরিকার এনএইচএস হেউড, মিডলটন ও রোশডেল ক্লিনিক্যাল কমিশনিং গ্রুপের জন্য তথ্য বিশ্লেষণে নিজেদের সংযুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াজাত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে দ্রুততার সঙ্গে সতর্কতা দিতে সক্ষম ভেরিলি। একইভাবে গত সেপ্টেম্বরে কেমব্রিজে নিজেদের নিজস্ব অ্যালগরিদম ব্যবহার করে রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণে নিজেদের ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা চালু করেছে মাইক্রোসফটও।

অ্যাপলের মূলত চিকিৎসায় নতুন যন্ত্র উদ্ভাবনে আগ্রহী। চিকিৎসা উপাত্ত বিশ্লেষণে আইফোনের উপযোগী অ্যাপ তৈরির জন্য তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে এ ক্ষেত্রে অনেকেই এগিয়ে এসেছে। ফলে আইফোনের পর্দাতেই এখন রোগের সব রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেজ বায়োনেটওয়ার্কস’র তৈরি বিশেষ অ্যাপ ‘এমপাওয়ার’র কথা উল্লেখ করা যায়। পারকিনসন্স রোগীদের জন্য এই অ্যাপ বানানো হয়েছে। এই অ্যাপ আইফোনের অভ্যন্তরীণ ত্বরক যন্ত্র (এক্সেলেরেটর) ব্যবহার করে রোগের তীব্রতা মাপাসহ চিকিৎসকের মতোই করণীয় বলে দিতে সক্ষম। এ ছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে পারকিনসন্স রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই তা শনাক্ত করতে পারবেন চিকিৎসকেরা।

তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গার্টনার’র স্বাস্থ্যসেবা বিশ্লেষক অনুরাগ গুপ্ত লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টকে বলেন, এই সব ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে অ্যাপলের রাজস্বে বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগ হবে সন্দেহ নেই। অচিরেই চিকিৎসকেরা ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো অ্যাপলের এসব প্রযুক্তি তাদের পরিষেবাতেও যুক্ত করবেন।

এখানেই শেষ নয়, প্যাথলজি ও চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে হাজির হয়েছে রোগের অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল ওষুধ ব্যবস্থা। রোগের অ্যালগরিদম হলো রোগ নির্ণয়ের জন্য ডিজিটাল ভাষা, যা বিভিন্ন ডিভাইসের সফটওয়্যার বা অ্যাপে কোড করা থাকবে। এ ক্ষেত্রে আমাজনের কথা বলা যায়। কেউ কেউ ভেবেছিল, আমাজনের উদ্যোগটি হয়তো ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর অগ্রিম অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার মতো কিছু করবে। কিন্তু রেস্তোরাঁর টেবিল বুক করার মতো সহজ চিন্তাপ্রসূত প্রকল্পের পথে হাঁটেনি আমাজন। তারা প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রায় ১০ লাখ কর্মীর জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার দ্বার অবারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা অচিরেই সাধারণের জন্যও চালু করা সম্ভব হবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখানে বলা যেতে পারে অ্যালফাবেটের সিটিব্লক হেলথের কথা, যার লক্ষ্য নিম্ন আয়ের নগরবাসীর জন্য বাড়ি বাড়ি চিকিৎসক পাঠানো। এই চিকিৎসকের খরচ রোগীকে দিতে হবে না, সেটি দেবে এই প্রকল্পের আওতায় থাকা ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা। এ জন্য প্রকল্পের সঙ্গে আমেরিকার অন্যমত বড় স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানি ‘মেডিকেইড’কে যুক্ত করেছে অ্যালফাবেট।

অ্যাপলের স্মার্টওয়াচ এরই মধ্যে অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। এখন বিভিন্ন ডিভাইসে ক্যামেরার চারপাশে অসংখ্য সেন্সর সন্নিবেশিত করছে অ্যাপল। রোগীর রক্তচাপ, চর্বির পরিমাণ ও হৃৎস্পন্দন নির্ণয়ের জন্য পর্দায় একটি আঙুল রাখলেই আইফোন সব বলে দেবে সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়। তারহীন হেডফোন এয়ারপডকেও আগামী দিনে বায়োমেট্রিক মনিটরিংয়ের কাজে লাগানোর মতো করে প্রস্তুত করছে অ্যাপল। এ ছাড়া স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ গবেষণায় অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন নির্ণয়ের অ্যালগরিদম প্রস্তুতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই গবেষণা ‘ডিজিটাল থেরাপিউটিক’ নামে একটা নতুন চিকিৎসাব্যবস্থার দরজা খুলে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে মানসিক রোগসহ অনেক রোগেরই ক্লিনিক্যাল ওষুধ পরিহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘ডিজিসিউটিক্যাল’ নামের নতুন এই চিকি

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: