fbpx
প্রচ্ছদ / সম্পদকীয় / বিস্তারিত

রাকিবুল হাসান

চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু; তোমাকে হাজারো সালাম৷

১ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩০:৪৬

মোঃ রাকিবুল হাসান

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।’ চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু; তোমাকে হাজারো সালাম। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে ১৫ আগষ্টের কাক-ভোরে মসজিদে যখন মোয়াজ্জিন আজান দিচ্ছিলেন “হাইয়ালাস-সালা হাইয়ালাস-সালা, হাইয়ালাল-ফালাহ হাইয়ালাল-ফালাহ” আর বলছিলেন, হে মুমিনগণ! মসজিদের দিকে এসো, মসজিদের দিকে এসো; ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের বিদেশি প্রভুদের মদদে সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। তৎকালীন সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা খুনি মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মাহবুব আলম চাষীসহ অনেকে সেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দেশবাসী যা চায়, সব ক্ষেত্রে তার প্রাপ্তি ঘটে না। নইলে আবরাহাম লিঙ্কন ঘাতকের হাতে প্রাণ দেবেন কেন! তার এমন মৃত্যু কি কেউ কামনা করেছিল? কেউ কি কামনা করে ছিল গান্ধীজির উন্মুক্ত বক্ষ বুলেটের আঘাতে বিদীর্ণ হবে অথবা মার্টিন লুথার কিংয়ের প্রাণহীন দেহ এমনি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে। আমরা জানি মহৎ মানুষের মৃত্যু নেই।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের উজ্জীবনের জন্য প্রাণের উচ্চারণ ছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ঘাতকদল প্রথমেই সেদিন দখল করে নিয়েছিল বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশন ভবন। ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশে রেডিও পাকিস্তানের নামকরণ করা হয়েছিল বাংলাদেশ বেতার। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের উজ্জীবনের জন্য প্রাণের উচ্চারণ ছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ঘাতকেরা বেতার ভবন দখল করেই বাংলাদেশ বেতারের নাম পাল্টে ফেলল রেডিও বাংলাদেশ। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান প্রতিস্থাপিত হলো ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ দ্বারা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এলো খন্দকার মোশতাক। বঙ্গভবনে বসে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধুর খুনি সেই ঘাতকদল দেশ পরিচালনা করতে শুরু করল। বঙ্গবন্ধুর প্রাণহীন দেহটি তারা সমাধিস্থ করল দেশের এক নিভৃত পল্লীতে- টুঙ্গিপাড়ায়। এভাবে বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে বিদায় করে তার লাশ অনাদর আর অবহেলায় টুঙ্গিপাড়ায় লুকিয়ে রেখে দাপটের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদেই শুধু বসল না; শুরু করল আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির এক নগ্ন খেলা। বাংলাদেশকে তারা ফিরিয়ে নিতে চাইল সম্পূর্ণ সেই পুরনো পাকিস্তানি ভাবধারায়। সর্বাত্মক চেষ্টা নিল বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে উপড়ে ফেলতে।

সেই পনেরো আগস্টের ভোরে পুরো ধরিত্রীই থমকে গিয়েছিল, বেদনায় মুষড়ে পড়েছিল বিষম। বাতাস ফুঁপিয়ে কাঁদছিল, আকাশ হয়ে গিয়েছিল অধিক শোকে পাথর। সৃষ্টির পর থেকে এমন শোকের ঘটনা বিশ্বপ্রকৃতি আর কখনোই বোধ হয় প্রত্যক্ষ করেনি। এমন বিশ্বাসঘাতকতাও বোধ হয় আর কখনোই দেখেনি। তাই পুরো বিশ্বপ্রকৃতিই হয়ে গিয়েছিল নিস্তব্ধ, শোকে মুহ্যমান পাষাণ। আর বিমূঢ়, বাকহারা হয়ে গিয়েছিল বিশ্বমানব সম্প্রদায়।

যে মহান ব্যক্তি একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিল, সেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে তারই দেশের মানুষের হাতে স্বপরিবারে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে ছিল যেমন অবাক বিস্ময়ের, তেমনি শোকের।

তাই এখনই সময়, স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিহত করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: