করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,০১৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৬,৪৪২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

ছাতকের বাজার পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত, শহরের প্রধান সড়কে আবারো বসছে কাঁচাবাজার

৩০ মে ২০২০, ৮:২৭:১৬

ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে দিন দিন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হলেও সাধারণ মানুষ এর তোয়াক্কা না করে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মতো চলাফেরা করতে শুরু করেছে। ফলে এখানকার করোনা ভাইরাস সংক্রমন মহামারী আকার ধারনের আশংকা করছেন সচেতন মহল। ঈদ উপলক্ষে দেশের লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুবাদে এখানকার সাধারণ মানুষ শহর ও বাজার-হাটে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও রাত পর্যন্ত দেকানপাট খোলা রেখে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। শহরের অধিকাংশ দেকানপাট ও বিপনী বিতানগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খোলা রাখলেও সব ধরনের দোকানেই মানুষের ভীড় ছিল বরাবরের ঈদের মতোই। ঈদ পরবর্তি এক দু’দিন পর আবারো শহর ও বাজার-হাটমুখী হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। তোয়াক্কা করছেনা স্বাস্থ্যবিধি মানার কিংবা বজায় রাখছে না কোনো সামাজিক দূরত্ব। শহরে আসা শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ও ব্যবসায়ী ব্যবহার করছে না মাস্ক।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে শহরের প্রধান সড়কে কিছু-কিছু কাঁচামাল ও ফল ব্যবসায়ীরা তাদের পূর্বের স্থানে দোকান খুলতে শুরু করেছে। অনিয়ন্ত্রিয় হয়ে পড়েছে এখানের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরাও। আগের মতোই সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেছে তারা। রমজান শুরু হওয়ার আগেই শহরের প্রধান সড়কের উপর জনচাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এখানের কাঁচা বাজার, ফল, মাচ, পান-সুপারীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসা ছাতক শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়ামে (মন্টু বাবুর মাঠ) স্থানান্তর করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। দেশের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফার্মেসী ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রেখে এখানের সকল দোকানপাট ভালোই চলছিল। কিন্তু রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠে এখানের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীরা। স্থানান্তরিত নির্ধারিত স্থান থেকে শহরের প্রধান সড়কে উঠে আসতে থাকে। বর্তমানে এখানের বাজার পরিস্থিতি দেখলে যে কারো মনে হবে এখান থেকে করোনা ভাইরাস নামক মহামারী হয়তো বিদায় নিয়েছে। শহরের কিছু সংখ্যক দোকান ও মার্কেটগুলো নির্ধারিত সময়ে বন্ধ করা হলেও শহরের অলি-গলির বেশ কিছু দোকান রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে দেখা গেছে। শহরের গলির কয়েকটি চায়ের দোকানে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রেখে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। রাতে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে দেখা গেছে কতিপয় ব্যবসায়ী কাঁচামাল, মাছ ও চায়ের দোকান খুলে বসতে। ফলে এ ব্যবসায়ীদের ঘিরে এখানে কেনা-বেচার পাশাপাশি আড্ডায়ও মত্ত হয় কিছু অতি উৎসাহিত মানুষ। সন্ধ্যার পর প্রশাসনিক ও পুলিশি তৎপরতা তেমন না থাকায় তারা বিনা বাঁধায় ও অবাদে ব্যবসা খুলে বসতে পারছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অপরদিকে, প্রতিদিনই এখানে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত এখানে ২৪জন করোনা রোগীর সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বেশীরভাগই ঈদ পরবর্তী সময়ে সনাক্ত হয়। বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা না হলে এখানের করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারন করার আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: