শীতার্তদের পাশে দাড়ানোর আহবান-

ছাতকে আসন্ন মাঘের শীতে বেড়েছে দুর্ভোগ

৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৭:৩৫:৪০

হেলাল আহমদ, ছাতকঃ
ছাতকে ক্রমশই বাড়ছে শীত। পৌষের শেষ সপ্তাহে এসে হিমালয় থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। ক’দিন ধরে দিনের বেলা প্রখর রোদ থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকে হালকা ও মাঝারি ধরনের কুয়াশাসহ কনকনে শীত অনুভুত হওয়ায় বেড়েছে দুর্ভোগ। বিশেষকরে এসময়ে বৃদ্ধ, শিশু ও ছিন্নমূল হতদরিদ্রের দিনকাল মোটেই ভাল যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত যে পরিমাণ শীত অনুভুত হচ্ছে তা অসহনীয় শীত বললেই চলে।স্থানীয়রা জানান, ক’দিন ধরে এখানে একটু বেশি মাত্রায় শীত নেমেছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকে হালকা ও মাঝারি ধরনের কুয়াশাসহ হিমেল হাওয়ায় যে পরিমাণ শীত অনুভুত হচ্ছে তাতে সমাজের হতদরিদ্র থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মজীবি মানুষদের দিনকাল ভাল যাচ্ছে না। এমনকি পৌষের শেষ সময়ে এসে হঠাৎ করে শীতের মাত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় নবজাতক শিশুদের দেখা দিচ্ছে শীত জনিত নানা রোগ। প্রত্যহ শীত জনিত রোগ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এজমা, এলার্জীসহ ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চিকিৎসকের শরনাপন্ন হচ্ছেন।

জাউয়াবাজারের এক ফুটপাতের চা বিক্রেতা বলেন, কথায় আছে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ এবার মনে হচ্ছে মাঘের শীতটা ততোটাই হবে। ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসেন আর মধ্যরাতে ফিরে যান বলে গরম কাপড় সাথে করে নিয়ে এসেছেন জানিয়ে বলেন, এখনই এতোটা শীত অনুভুত হচ্ছে, এসব কাপড়ে শীত মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। তাছাড়া রাতে প্রচন্ড শীত ও হিমেল হাওয়ার কারনে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় রাতের বেলা এখন আর আগের মতো চায়ের বেচাকেনা হয়না। ফুটপাতের আরেক চা বিক্রেতা জানান, সকাল ১০টার পর থেকে বাকি সময়টাতে রোদের তাপ বেশ ভালোই থাকে। সন্ধ্যা হতেই বইতে শুরু করে ঠা-া হওয়া। এরপর রাত যতো বাড়ে শীতের প্রকোপও বাড়তে থাকে।

এদিকে, আসন্ন মাঘের এ কনকনে শীতে উপজেলার দুয়েকটি এলাকায় ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের সাহায্যার্থে বিত্তবানদের দ্বারা কিছু সংখ্যাক কম্বল বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিংবা সমাজের বৃত্তবানদের এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সহযোগিতার হাত বাড়াতে দেখা যায়নি। প্রচন্ড শীতে এসব শীতার্ত মানুষের সাহায্যার্থে সরকারের জনপ্রতিনিধিসহ সকল বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অপরদিকে, শীতের প্রকোপ শুরু হওয়ায় ঠা-াজনিত বিভিন্ন রোগে শিশু ও বৃদ্ধদের অসুস্থ হওয়ার আশংকা একটু বেশি বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এক্ষেত্রে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার আশংকা একটু বেশি থাকায় এসময়ে অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি একটু বেশি যতœশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: