fbpx

হেলাল আহমদ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছাতকে খোলা আকাশের নিচে পাঠ গ্রহন করছে মরহুম সুনু মিয়া চৌধুরী বেসরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা

৮ মে ২০১৯, ১০:৩৯:২৪


ছাতক প্রতিনিধিঃ

ছাতকে খোলা আকাশের নিচে নিয়মিত পাঠ গ্রহন করছে শহরের ফকিরটিলা মরহুম সুনু মিয়া চৌধুরী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত দু’সপ্তাহ ধরে পাঠ গ্রহনের পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে প্রথম সাময়িক পরীক্ষাও দিয়েছে তারা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কিংবা পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত হয়নি। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই এখানে। গত ১৭ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেলে আজোবদি খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। রোদ-বৃষ্টি থেকে শিশুদের বাঁচাতে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সিমেন্টের বস্তায় তৈরী ত্রিপাল টানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। টানানো ট্রিপালটি রোদ-বৃষ্টির কোনটিই বাঁধা হতে পারেনি। ফলে রোদ-বৃষ্টির প্রতিকূল পরিবেশেই চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপাড়ার কাজ।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বঞ্চিত ও ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখি করতে ২০০৯ সালে শহরের ফকিরটিলা এলাকায় মরহুম সুনু মিয়া চৌধুরী নামে একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন বাগবাড়ী এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম সুনু মিয়া চৌধুরীর পুত্র সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন। পিতার নামে নামকরন করা এ বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকনের নজরদারিতে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর ধরে সন্তোষজনক ফলাফলও করে আসছে বেসরকারী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিগত দু’বছর ধরে সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন শারীরীকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় আটকে পড়ে বিদ্যালয়টি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২১০জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জন শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশীর ভাগ বঞ্চিত বেদে সম্প্রদায়ের শিশু। এ ছাড়া ফকিরটিলা, রাজগাঁও, টেকি, বেদে পল্লী ও কাটা বিল সংলগ্ন এলাকার শিশুরা এ বিদ্যালয়ে আসে লেখাপড়া করতে। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এ বিদ্যালয়টি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ে চালা উড়িয়ে নেয়ায় চালা পুনঃ স্থাপন করার মতো আর্থিক স্বামর্থও নেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ফলে গত দু’সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচেই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাবনাজ সুলতানা জানান, বিদ্যালয়ে তিনিসহ আরো ২ জন শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন। বিগত ২ বছর ধরে তারা কোন বেতন পাচ্ছেন না। শুধু শিশুদের মুখের দিকে চেয়ে এবং বিদ্যালয়টি সরকারীকরন হবে এ প্রত্যাশায় তারা সব কষ্ট সহ্য করে নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা বসার মতো কোন চেয়ার-টেবিল ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই। নেই বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা। ওয়াসরুম না থাকায় অনেক সময় তাদের মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়। তিনি বিদ্যালয়টি দ্রুত সরকারীকরনের দাবী জানান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, আর্থিক সমস্যার কারনে অগ্রসর এ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। ৩য় ধাপে এ বিদ্যালয়টি সরকারীকরনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তা হয়নি। বিদ্যালয়টি সরকারীকরন করা হলে বিদ্যালয়ের আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উন্মোচিত হবে শিশু শিক্ষার আরো একটি নতুন জানালা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: