করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০
প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের কিছু প্রস্তাবনা

২৫ এপ্রিল ২০২০, ৭:০৬:০৫

দেশের নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত, গরিব শ্রেণি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।অথচ এ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি অবহেলা আর উদাসীনতার শিকার।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বর্তমানে কোন সেশনজট বিদ্যমান নেই। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন বিদ্যমান। পৃথিবীর অন্যতম বড় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষক স্বল্পতা, অবকাঠামো সমস্যা, গবেষণা কেন্দ্র ইত্যাদি সমস্যায় জজরিত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে সরকারি আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সারাদেশ জুড়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য আকাশপাতাল। যেখানে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, CT, প্রেজেন্টেশন, ভাইভা, সেমিস্টার ফাইনাল, এসাইনমেন্ট, ল্যাব ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত। সেখানে অধিকাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের শিক্ষার্থীদের এগুলো নিছক বিলাসিতা। গ্রেডিং পদ্ধতিতে যেখানে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২১০ দিন ক্লাস হওয়ার কথা সেখানে প্রকৃতপক্ষে ৫০-৭০ কার্যদিবসের বেশি ক্লাস হয় না। ক্লাস না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, শিক্ষক স্বল্পতা, অবকাঠামো সমস্যা ও এইচএসসি কোর্স কলেজগুলোতে অন্তভূক্তি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পরশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কলেজের শিক্ষার্থীরা পায় না। উপজেলা পর্যায় অধিকাংশ কলেজগুলোতেই নেই সাংস্কৃতিক সংগঠন, ডিবেট ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব। অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন এসবের সাথে পরিচিত তখন উপজেলা পর্যায়ে অর্নাসপড়ুয়াদের কাছে এগুলো নিছক স্বপ্ন।

সারাদেশে ৬৩২ টি সরকারি কলেজে রয়েছে। বর্তমানে সরকারি কলেজগুলোতে সাড়ে ১৫ হাজার শিক্ষক পদ আছে। পদগুলো থেকে সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক পদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা আগাচ্ছে ধীরগতিতে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে আগ্রহী হচ্ছে না। বছরে একবার ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা, কয়েকটি টেস্ট ও ইনর্কোস পরীক্ষা দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষামান কখনোই আনা সম্ভব নয়।

দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার অবলম্বন এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবী। সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে যথাযথ শিক্ষা উপকরণ ও বরাদ্দ না দিয়ে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব না। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পিত ভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের কিছু প্রস্তাবনাঃ
১) একক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোকে নিয়ে যাওয়া। এজন্য সরকার, বিভাগীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঐ বিভাগের সকল সরকারি কলেজগুলোকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু বাস্তবে তা কতটুকু যুক্তিসম্মত তা ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। যে সেশনজট ও শিক্ষা মান উন্নয়নের জন্য ঢাবির অধীনে নেওয়া হলো, বাস্তবে কতটুকু সুবিধা পেরেছে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা? এখনো সেশনজটের বৃত্তে আটকে আছে ৭ কলেজ। ঢাবির অনেক শিক্ষার্থী সরকারের এ অধিভুক্তির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এতে ঢাবির শিক্ষার মান হ্রাস পাবে। সেজন্য বেশকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া যায়ঃ
ক) বিভাগীয় পর্যায় সকল কলেজ নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোতে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
খ) নতুবা বৃহত্তর জেলাগুলো সকল কলেজ নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
২) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ সিজিপিএ ধারী শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ প্রদান।
৩) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি।
৪) উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি কলেজগুলো না রেখে আলাদা উচ্চ মাধ্যমিক কলেজর অধীনে রাখা।
৫) গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি।
৬) অবকাঠামোগত উন্নয়ন
৭) সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব গঠনে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের আগ্রহ।
৮) ইয়ার ভিত্তিক না রেখে সেমিস্টার ভিত্তিক শিক্ষা কাঠামোতে রূপান্তর।
৯) শিক্ষার মান উন্নয়নে গবেষণা করে কার্যকর ব্যবস্হা নেওয়া।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর পাস করা লাখো গ্রাজুয়েটের চাকরির নিশ্চিয়তা তৈরি করতে না পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়।

লেখক
মোঃ ফাহাদ হোসেন হৃদয়
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: