করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭২১,৪৩৫
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

জীবনের দাম ৪ লাখ সন্দেহভাজন মুক্ত

১ মে ২০২১, ৭:৫৬:০১

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরনখোলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না কোম্পানীর ব্লক তৈরীর কারখানায় শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হলেও তার পরিবার মামলা করতে রাজি নয়। চার লাখ টাকায় সমঝোতার কারনে কারনে সন্দেহভাজন ওই একই কারখানার ফরক্লিব গাড়ীর ড্রাইভার মো. শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে শরনখোলা থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না প্রকল্পের উপজেলার চাল-রায়েন্দা এলাকার সিসি ব্লকের কারখানার ভিতরে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের নওয়াব হোসেন মধু মৃধার ছেলে মোঃ সবুজ মৃধা নামে এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শরনখোলা থানা পুলিশ একই দিন সকাল দশটার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করেন। এসময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহৃ দেখা গেছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজন হিসেবে ওই সময় কারখানা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা আ. রশিদ আকনের ছেলে এবং প্রকল্পের ফরক্লিব গাড়ীর ড্রাইভার মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫)কে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, শহিদুলের সাথে সবুজের পুবের্র বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন রাত তিনটার দিকে শহিদুল সেরা আসছেন বলে ফোন করে সবুজকে ওই কারখানায় ডাকেন। ধারনা করা হচ্ছে সেই শত্রæতার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার মধ্যে সবুজকে একা পেয়ে পরিকল্পিত ভাবে ফরক্লিব মেশিন চাপা দিয়ে শহিদুল ট্রাক চালক সবুজ মৃধাকে হত্যা করে লাশ ট্রাকের নিচে ফেলে রাখেন। তাছাড়া চায়না কোম্পানী ৩৫/১ পোল্ডারের কাজ শুরু করার পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন। যা দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে কোনটারই মামলা হয়নি। ওই সকল শ্রকিদের পরিবারগুলো অসহায় হওয়ার কারনে সামান্য কিছু ক্ষতিপুরন দিয়ে চায়না কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কতিপয় দালাল চক্রের সদস্যরা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে দেননি। শুনেছি শ্রমিক সবুজ নিহতের ঘটনায় তার মামা আ. হালিম বেকারী চার লাখ টাকা ক্ষতিপুরন নিয়েছে। তাই তার পরিবারের কেউ মামলা করতে চান না। তবে আমরা এলাকাবাসী প্রসাশনের কাছে এমন সুপরিকল্পিত ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিচার দাবী করছি।

শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, ওই ঘটনায় ড্রাইভার শহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছিল। নিহতের পরিবার কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না করায় শহিদুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও আরো গভীর তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর সব কিছুই খোলসা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: