করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৭৮৮ ◈ আজকে মৃত্যু : ২৯ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৭৮,১৭২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

ঝালকাঠিতে শিশু সন্তানকে আটকে রেখে স্ত্রীর সাথে বোঝাপাড়ায় নেমেছে নৌবাহিনীর সদস্য

২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪০:৪৪

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় ৪ বছরের পুত্র সন্তানকে আটকে রেখে নিজ স্ত্রী আজমেরী জাহান সুইটির সাথে বোঝাপাড়ায় নেমেছে মো: সোলায়মান খান প্রিন্স নামের এক নৌবাহিনীর সদস্য। তিনি উপজেলার কচুয়া গ্রামের আ: মান্নান খানের ছেলে ও বানৌজা তিতুমীরে এলএস (২০০৬০৪৬০) পদে কর্মরত। স্বামী প্রিন্স তার শশুর পরিবার থেকে নেওয়া নগদ ৮ লক্ষ টাকা আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২০ ফেরত দেওয়ার জন্য স্ত্রীর অভিযোগের ভিক্তিতে নৌ কর্মকতার্রা নির্দেশ দেন। সম্প্রতি তিনি ছুটিতে এসে ৪ বছরের পুত্র সন্তানকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেন এবং প্রায় ২ সপ্তাহ যাবৎ মা সন্তানের শোকে দিক বিধিক ছুটে অবশেষে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ষাটোর্ধ শশুর আ: মান্নানকে খবর দিয়ে প্রতিবেশী আবুল কালাম মল্লিকের বাড়িতে এনে শশুরের হাতে পায়ে ধরে নিজের শিশু পুত্রকে কাছে পাওয়ার আকুতি জানায়। এই সংবাদ শুনে পাসন্ড স্বামী ছুটে এসে নিজের পিতা, শাশুড়ি ও ঐ পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীদের সামনে বেধরক মারপিঠ করে স্ত্রীকে আহত অবস্থায় রেখে সটকে পড়ে। উপস্থিত লোকজন ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় পিতৃহারা গৃহবধু সুইটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ হোসেন রিপনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চিকিৎসার জন্য পরিবারের লোকজন গৃহবধুকে পাশ্ববতর্ী রাজাপুর উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করান।
গৃহবধুর স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নৌ সদস্য এম এস খান প্রিন্সের সাথে পারিবারিক ভাবে ২০১১ সালে সুইটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। হঠাৎ পরকীয়া নামের একঝড় তাদের দাম্পত্য জীবনকে বিষন্ন করে তোলে। তাদের দুর সম্পর্কের এক আত্মীয়া প্রবাসির স্ত্রীর সাথে প্রিন্সের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের তথ্য ফঁাস হলে স্বামীর খরগ নেমে আসে স্ত্রী সুইটির উপড়। পরিবারের লোকজন ধারনা করছিল ঐ দম্পত্তির সন্তান জন্ম হলে ফিরে আসবে সংসারে শান্তি শৃংখলা। পরের বছর পুত্র সন্তানের জন্ম হলেও শৃংখলা আর ফিরে আসেনি। স্বামী প্রিন্সের লোভ হয় অকালে মৃত্যু বরণ করা সরকারি চাকুরীজীবি শশুরের রেখে যাওয়া অবসরের প্রাপ্ত টাকার উপড়। পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন নতুন নতুন পরকীয়া সম্পর্ক। শিক্ষিতা স্ত্রীর চোখে স্বামী কতর্ৃক অপকর্ম গুলো ঢেকে রাখা সম্ভব হয়নি প্রিন্সের। বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী কতর্ৃক হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরৎ চাওয়া ও নতুন নতুন পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করলে সংসারে অশান্তি আবার শুরু হয়। এ নিয়ে স্ত্রী সুইটি স্থানীয় পযার্য়ে ইউনিয়ন পরিষদে পারিবারিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে চেয়ারম্যানের আদালতে বিচার সম্পন্ন করতে লিখিত অপারগতা প্রকাশ করলে স্ত্রী সুইটি বিচারের আসায় নৌ সদর দপ্তরের স্বরনাপন্ন হন। নৌ সদর দপ্তর থেকে স্ত্রী সুইটিকে প্রেরন করা হয় স্বামীর কর্মস্থল খুলনার বানৌজা তিতুমীরে। চলতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর স্ত্রীর অভিযোগের ভিক্তিতে আগামী ৩১ শে অক্টোবরের মধ্যে হাতিয়ে নেওয়া ৮ লক্ষ টাকা ফেরত ও স্ত্রীর উপড় নিযার্তন করবে না এ মর্মে নৌবাহিনীর কর্মকতার্দের মাধ্যমে মুছলেকা প্রদান করেন স্বামী। অভিযুক্ত স্বামী প্রিন্স তার উপড় অর্পিত দায়িত্ব ও শর্তভঙ্গ করে ছুটিতে বাড়িতে এসে সৃষ্টি করছে নতুন নতুন অবতারনা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রিপন মুঠোফোনে জানান, আহত সুইটির ফোন পেয়ে ইউপি সদস্য পাঠিয়ে গৃহবধুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরন করি। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, বানৌজা তিতুমীর কতর্ৃপক্ষ তার কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছেন স্থানীয় ভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি করার জন্য কিন্তু এর মধ্যেই স্বামী প্রিন্স একের পর এক অপ্রতিকর ঘটনা ঘটিয়ে চলছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী এম.এস খান প্রিন্সের কাছে তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি খুলনার বানৌজা তিতুমীরে দেওয়া নিজ হাতে লেখা মুছলেকার কথা অস্বিকার করেন। এ ছাড়াও তিনি তার ষাটোর্ধ পিতা ও শাশুরিকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ তোলেন।
কাঠালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ পুলক চন্দ্র রায় জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: