করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,২৭১ ◈ আজকে মৃত্যু : ১১২ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬২১,৩০০
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

তালার বহুলালোচিত রবের উত্থান ও অন্তরালের অজানা কাহিনী

১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৪:৩১

আলোর প্রতিদিন ডেস্ক: তালার নিভৃত পল্লী হাজরাকাঠির একজন রব ও তার অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক সর্বোপরি পেশী-বাক শক্তির উত্থান। নিষিদ্ধ রাজনীতির একজন সংগঠক হিসেবে যার বেড়ে ওঠা। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নিষিদ্ধ রাজনীতির যবনিকায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তিনিও ভোল পাল্টান। কে এই রব? কি তার পরিচয়? ইত্যাদি সব জানা অজানা রহস্যাবৃত কাহিনী,এক কথায় তার উত্থানের পেছনের খবর সম্পর্কে বৃহত্তর পাঠককূলকে জানান দিতেই আজকের আয়োজন।

স্ব-শস্ত্র সন্ত্রাসীদের পদভারে প্রকম্পিত এক সময়কার ভয়াল জনপদ তালার প্রত্যন্ত এলাকা যখন বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখনকার নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির অন্যতম প্রতিপক্ষ পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির তালা উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকার কর্ণধর হিসেবে পরিচিত ছিলেন আজকের আলোচনায় থাকা আঃ রব।

শ্রেণী শক্রুদমণ থেকে শুরু করে নিজের অবস্থান জানান দিতে এমন কোন অপকর্ম নেই যে,সে সময় তারা দ্বারা সংগঠিত হয়নি। ঘের দখল,লুটতরাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি থেকে শুরু করে স্বদলীয় প্রতিটি অপকর্মের সারথী ছিলেন তিনি। মূল উদ্দেশ্য ছিল, নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততায় পরিচালিত নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ছদ্মাবরণ,অস্ত্র সরবরাহ ও তাদের সার্বিক নিশ্চিত নিরাপত্তা, সর্বোপরি দল পরিচালনা। শ্রেণী ও স্বীয় স্বার্থে ঐসময়কার মোষ্ট ওয়ান্টেট বিদ্যুৎ বাঁছাড়ের সাথে ছিল তার দারুণ সখ্যতা। তার সাথে হাত মিলিয়েই তিনি একের পর এক জনপদে অপকর্ম পরিচালনা করতে থাকেন।

তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়,১৯৯৯ সালে রইচ মিস্ত্রীর মালিকানাধীন তালা উপজেলার হাজরাকাঠি- কাঠবুনিয়ার ১ হাজার বিঘার সোনামুখী মৎস্য খামারটি মূহুর্মূহু বোমা হামলা ও অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক দখল করে ঐসময় সন্ত্রাস জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন, আজকের আব্দুর রব। ঐসময় পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন তিনি। এরপর ছাড়া পেয়ে একই এলাকা হাজরাকাঠি বাজারস্থ জনৈক মোকছেদ শেখের মালিকানাধীন থাকা প্রায় দু’বিঘা জমি প্রথমে অস্ত্রের মুখে দখল ও পরে নিজ নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়। শুধু এখানেই শেষ নয়,ঐজমির লাগোয়া সরকারের প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি নিজ আয়ত্বে নিয়ে গড়ে তুলেছেন দোকান-পাঠ। যেখান থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন তিনি।

২০০১ সালে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তালা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অঞ্চল প্রধান রব। এঘটনায় তালা থানায় সেসময় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়। যার নং-১। তাং ২/৪/২০০১ ইং। মামলায় দীর্ঘ দিন কারান্তরীণ ছিলেন তিনি। পরে সাতক্ষীরা স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক আঃ রবকে এ মামলায় যাবজ্জীবন কারা দন্ড প্রদান করেন। এরপর তিনি হাইকোর্ট’র আপিল করেন। যার নং-৪৭৩৮/২০০৩।

সেখান থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে কিছু দিন নিরব থাকলেও ফের শুরু করেন তার পুরনো অপকর্ম। ২০১৪ সালে হাজরাকাটি এলাকার ১২০ বিঘার নলবুনিয়া মৎস্য ঘেরে বোমা বাজি করে নিজ দখলে নেন। এসময় তার হাত থেকে রক্ষা পাননি জনৈক সেনা কর্মকর্তার ভাইও। বেদম প্রহার করে মারাতক আহত করা হয়েছিল তাকে। এনিয়ে ঐসময় ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠায় মূলত নানামুখী চাপে পড়েন রব। আবারো কিছু দিনের নিস্তব্দতা। এরপর ফের স্ব-র্মর্তিতে ফিরে সন্ত্রাসে কৌশল পরিবর্তন করেন তিনি। বিভিন্ন জনের বিবাদমান বা ত্রটি পূর্ণ ইস্যুতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মধ্য সত্তভোগী হিসেবে লুটে নেন কাড়ি কাড়ি টাকা। কোথাও কোথাও নিজ নামে বিবাদমান বহু সম্পত্তি লিখে পর্যায়ক্রমে দখলে নেন তিনি। এরপর বারুইহাটি গ্রামের জনৈক জাফর কবিরাজের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ছাড়া পান তিনি। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে ঐসময় নানামুখী চাপ ও হুমকির মুখে আলোয় আসেনি অনেক কাহিনী।

এদিকে এক সময়কার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক প্রধানের দায়িত্বে থাকা আঃ রব বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের পালা বদলে নিজের ভোল বা খোলশ পাল্টালেও পুষে রাখেন ভেতরের রবকে। নানা উত্থানের এক পর্যায়ে সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করলেও স্ব মূর্তিতেই রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি খলিলনগর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার ইমান আলীসহ বহু মানুষের সামনে হাজরাকাটি গ্রামের দিন মজুর ও ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুনছুর গাজীকে হত্যার হুমকি দেন। বিষয়টিতে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নিলে এক পর্যায়ে ক্ষমা চেয়ে ঐযাত্রায় রক্ষা পান তিনি। সর্বশেষ পুলিশকে নাশকতা মামলার আসামী স্থানীয় জনৈক জামায়াত নেতার বাড়ি চিনিয়ে দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় চৌকিদার সোহেল শেখকে প্রকাশ্যে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেন।

বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে পৌছালে পুলিশের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা রবকে ধমক দিলে খানিকটা প্রশমন হন তিনি।

এসব ব্যাপারে ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে রবের দ্বারা আক্রান্তের শিকার হাজরাকটির মুনছুর আলী গাজী রবের পুরনো নিষিদ্ধ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে এপ্রতিবেদককে জানান,সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২০/২২ দিন পূর্বে রব তাকে প্রকাশ্য জনসম্মুখে হত্যার হুমকি দেয়।

একই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন,তার দ্বারা আক্রান্ত আরেক ব্যক্তি স্থানীয় চৌকিদার সোহেল শেখ। তিনি পুলিশকে নাশকতা মামলার আসামী জনৈক জামায়াত নেতার বাড়ি চিনিয়ে দেয়ায় তিনি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত আঃরবের কাছে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলি মিথ্যা,তবে মামলা প্রসঙ্গে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: