শিরোনাম
     করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৬১৪ ◈ আজকে মৃত্যু : ৫ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৯৯,৬২৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

দাবী আদায়ের সাত দফা ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৩:৪৭:২৯

সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্নঃবহাল, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন সহ ৭ দফা দাবীতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ২৩ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবীতে সর্বাত্মক এ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান কর্মসূচিতে অধিকার আদায়ের ৭ দফা
বাস্তবায়নে সরকারী ঘোষনা না আসা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ চত্বরে লাগাতার অবস্থান নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জ্বালাময়ী ভাষণে উদ্ভুদ্ধ হয়ে বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা হাতের মুঠোর মৃত্যু ও চোখে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। সুদীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩০ লক্ষ শহীদেও আত্মত্যাগ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী যুদ্ধাপরাধীরা কোনভাবেই এদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি বরং স্বাধীনতার বিরাধীতাকারীদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করার মাধ্যমে সেই সোনালী স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা খন্দকার মোশতাক। ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর কুখ্যাত ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে। ১৫ই আগস্টের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বা পরিকল্পনার সাথে জড়িত কারো বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা করা যাবেনা। এমনকি সুপ্রীম কোর্ট বা কোর্ট মার্শালেও তাদের বিচার করা যাবেনা। বাংলাদেশের সংবিধানে হত্যাকান্ডের বিচারপ্রাপ্তির মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে আদেশটিকে আইনে পরিণত করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ৯ই জুলাই সংসদে পাশ হয় মানবতাবিরোধী ইমডেমনিটি আইন। দেশে শুরু হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি। শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হয় খুনিদের।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে দেশের প্রচলিত রাজনীতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের রাজনৈতিক দল জামায়েত ইসলামীকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরী করে দেয়া হয়েছে। প্রচলিত রাজনীতির সুযোগে জাতীয় সংসদের মত পবিত্র স্থানে তাদেরকে বসার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দিয়ে তাদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়ানোর ব্যবস্থা করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের করা হয়েছে অপমানিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে জাতির জনকের সোনার বাংলা আজ লটপাটের
আখড়ায় পরিনত হয়েছে। যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে লাল সবুজের পতাকা উড়ছে সেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের করা হচ্ছে অপমানিত, লাঞ্চিত।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পন করেছে। এখানো পুরোনো শকুনের নখদন্তের আঁচড়ে জর্জরিত পবিত্র ভুমি। এখানো ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে করা হচ্ছে বিকৃত। যে আত্মত্যাগের বিনিময়ে এবং যে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে বাংলার সূর্য্য সন্তানেরা এ দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছিল তাদের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন আজও হয়নি।
স্বাধীনতা আনায়নকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া তো হলোই না, উপরন্তু গোঁজামিল সংজ্ঞায় দিনদিন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় মর্যাদা ও ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কহীন কেউ কেউ যখন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবে ভূষিত হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি হাতিয়ে নিচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডাকাতির সাথে জড়িত লোকজন এখন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তখন একদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অপমানিত হচ্ছেন, অপরদিকে দেশের জনগণও অবাক হচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। সরকারী হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্ধ থাকলেও হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জায়গা দখল করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভুমি দখল করে নিচ্ছে। দীর্ঘ ৪৯ বছরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি অনেক মুক্তিযোদ্ধার বসবাস করতে হয় বধ্যভূমিতে কিংবা রেললাইনের পাশে ঝুঁপড়িতে।

একজন মুক্তিযোদ্ধা তার নিজস্ব জমিতে ঘর তুলতে গেলে চাঁদা দাবী করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভিতর ঢুকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। শালিশ বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমিসহ স্থাপনা দখল করা হচ্ছে। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করার পর থানায় অভিযোগ দাখিল করায় উল্টো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ৬২ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সালিশ বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ সহ যেকোন বিষয়ে চেতনার ব্যবসাটা খুব ভাল করেই চেতনাকে পুঁজি করে কার্যসিদ্ধি হয়ে গেলেই পিছনের কথা ও প্রতিশ্রুতিগুলো ভূলে যাওয়া এখন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে।

যে আদর্শকে ধারণ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষেরা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এ দেশকে মুক্ত করেছে সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ৭ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনকে সফল করতে হবে।
তা নাহলে পলাশীর আম্রকাননে যে রক্ত ঝড়েছে সেই রক্তের অবমূল্যায়ন করা হবে। ১৯৭১ সালে যে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ সম্ভ্রম হারানো নারীদের সম্ভ্রমের অবমূল্যায়ন করা হবে।

৭ দফা দাবী :
১। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের পোষ্যদের জন্য সরকারি চাকরিতে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৩০% কোটা পূর্ণবহাল। সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও সরকারি পতিত জমি বরাদ্ধ দিয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
২। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে মৃত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নমিনীকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ।
৩। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন।
৪। মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় পত্র প্রদান। দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করন।
৫। মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা গ্ৰহণে সহজ শর্তে আবাসন ঋণ বাস্তবায়ন করা।
৬। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বেহাত হয়ে যাওয়া হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করে উভয় প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা।
৭। সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একাত্তরের বধ্যভূমি ও গনকবর সমূহ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ সহ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস অবৃকিত রাখা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্ৰহণ।
জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ
মাসুম বিল্লাহ
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ
কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: