প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ করতে চাই- প্রধানমন্ত্রী

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭:১০:০৩

জনি মন্ডল,কালিয়াকৈর প্রতিনিধি ঃ
উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে সততার সাথে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হলো শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৯ তম জাতীয় সমাবেশে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান টি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বাহিনীর প্রায় ৫৫ হাজার নারী-পুরুষ আনসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জনসম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। অপরদিকে দুটি পূর্নাঙ্গ মহিলা ব্যাটেলিয়ন সহ ৪১ টি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১৭ হাজার সদস্য পার্বত্য ও সমতল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫ লাখ আনসার সদস্য জীবনের ঝুকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তায় দায়িত্বের সাথে কাজ করেছেন। ৫ জন আনসার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি । তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আজকের সমাবেশ অনুষ্ঠানে তাদের মরোনত্তোর সাহসিকতা পদক প্রদান করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যগন খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় দেশের গতি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আনসার বাহিনীর গর্বিত সদস্য কমান্ডার আব্দুল জাবার ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য আত্মাহুতি দেন। আমি তার স্মৃতির প্রতি গভির শ্রদ্ধা জানাই। সেই সাথে তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। জাতিসংঘ মানদন্ডে আমাদের দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আঙ্গনে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ স্বীকৃত। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৬ এ উন্নীত হয়েছে। বিগত ১০ বছরে শিক্ষার হার ৪৫ থেকে ৭৩ শতাংশে পৌছেছে। দারিদ্রতার হার ২১.৮ শতাংশ নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে যাচ্ছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপন করা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল নির্মান, কর্ণফুলী ট্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে। নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে।

পুরুষ নারীর সমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭ তম এবং দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে টানা তিন বছর যাবৎ প্রথমে।
আমাদের লক্ষ হচ্ছে দেশকে দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। এ লক্ষে জনগনের স য় বাড়ানোর জন্য সরকার বদ্ধ পরিকর। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। আমি এখন এটাকে আমার বাড়ি আমার খামার বলি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দারিদ্রতা দূর হবে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদস্যরাও এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে পারে। আমি তাদের নিয়োযিত করার কথা বলেছি। আনসার ও ভিডিপি সসস্যদের আর্থ ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে তারা স্বল্প সুদে লোন নিয়ে আয় বর্ধনের বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারেন।

বক্তব্য শেষে তিনি বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: