বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯

মোজাম্মেল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,প্রতিনিধি

ধর্ম কোনো হত্যা বা জঙ্গীবাদকে সমর্থন করেনা।

১৫ মে, ২০১৯ ৫:১৮:০১

সকল ধর্মই পৃথিবীতে এসেছে শান্তির বার্তা নিয়ে। ধর্ম প্রচারকরা প্রচার করে গেছেন মানবতা, শান্তি ও একে অপরের প্রতি সম্মানবোধের বাণী। কথায় আছে -শান্তিই পরম ধর্ম।
পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, “পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করোনা।”( সূরা-২ আল বাকারা, আয়াত-১১)। পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা ইসলাম সমর্থন করে না। যেসব কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, তা করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তেমনি হিন্দু ধর্মে বলা আছে, “ঈর্ষা থেকে হৃদয়কে মুক্ত করো, সহিংসতা থেকে বিরত থাকো। (সামবেদ – ২৭৪)। স্বামী বিবেকানন্দ ও বলেছেন –“ যুদ্ধ নয়, সহমর্মিতা ; ধ্বংস নয়, সৃষ্টি ; সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতি।” বৌদ্ধ ধর্মে বলা আছে, “অহিংসা পরম ধর্ম।” এভাবে প্রতিটি ধর্মই তার অনুসারীদের শান্তির কথা বলে গেছে। এমনকি শান্তির জন্য দৃঢ় পদক্ষেপের কথা ও জানিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু বর্তমানে ধর্মের দোহাই দিয়ে শান্তি স্থাপনের নামে মৌলবাদী বেশ কিছু সংগঠন বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি করে চলেছে অশান্তি -অরাজকতা ও সন্ত্রাস। ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা বিশ্বব্যাপী চালিয়ে যাচ্ছে হত্যাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। যা ধর্মের মূল বিশ্বাসের পরিপন্থী।
সাধারণত কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বা আদর্শিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য সন্ত্রাসী বা হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে জঙ্গিবাদ বলা হয়ে থাকে। যারা কিনা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে উৎখাত করে তাদের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাধারণত ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে জঙ্গীবাদের দিকে আকৃষ্ট করে। তাছাড়াও কোনো ব্যাক্তি যখন ব্যাক্তিগতভাবে বা গোষ্ঠীগতভাবে আপেক্ষিক বঞ্চনার শিকার হয় ; যখন সে বৈশ্বিকভাবে যে সমাজের অংশ বলে নিজেকে মনে করে, তার প্রতি অসম আচরণ দেখতে পায় ; বিচ্ছিন্নতাবোধের গভীরতা, বৈষম্যবোধের তীব্রতা এবং সেসব বিষয়ে ক্ষোভের সীমাহীন মাত্রা তাকে জঙ্গীবাদের দিকে নিয়ে যায়।
যারা জঙ্গীবাদের সাথে সম্পৃক্ত হোন,তারা এমন এক ধরনের আদর্শ ও বিশ্বাসের সাথে পরিচিত হোন যা তাকে মধ্যপন্থী, মূলধারার চিন্তাধারা থেকে চরমপন্থী চিন্তা ধারায় সরে যেতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতাকে কেবল যৌক্তিক বলে বিবেচনা করা হয়না, সহিংসতাকে প্রধান ও একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়ে সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জঙ্গীবাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে কিছু আন্তর্জাতিক মহল তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীকে প্ররোচিত করে থাকে।
বাংলাদেশে গত নব্বইয়ের দশক থেকে জঙ্গীবাদের প্রসার লক্ষ্য করা যায়। তবে গুলশানের হোলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার পর থেকে তা নতুন মাত্রা লাভ করে। এরপর বেশ কিছু জঙ্গি হামলা আমরা এদেশে লক্ষ্য করেছি। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা ও শ্রীলঙ্কায় গীর্জায় জঙ্গি বোমা হামলায় জঙ্গীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা উঠে এসেছে। বৈশ্বিক ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও এই ঝুঁকির বাইরে নেই।
বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স নীতি” বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের তৎপরতা হ্রাস করেছে। তাছাড়া ও সামাজিক সচেতনতা জঙ্গীবাদ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে ও সবার মাঝে ধর্মের সঠিক ব্যাখা প্রচার করতে হবে, কেননা কোন ধর্মই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদে সমর্থন করে না। আর আমাদের প্রত্যেকের উচিত হবে এসব জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য কোনো ধর্মকে দোষারোপ না করে ঐ ব্যক্তি বা সংগঠনকে দোষারোপ করা। কারণ ধর্ম কখনো মানুষ হত্যাকে প্রশ্রয় দেয়না।

লেখক: মোজাম্মেল হক
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত:

আমাদের ফেসবুক পাতা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল


প্রতিনিধি নিয়োগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রাসেল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক : বনি আমিন
বার্তা সম্পাদক : রাইতুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয় : ১৬১/১/এ উলন, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
মোবাইল : 01715674001
বিজ্ঞাপন : 01727338602
ইমেইল : alorprotidin@gmail.com, news.alorprotidin@gmail.com

Developed by RL IT BD