হেলাল আহমদ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছাতকে হাওরজুড়ে চলছে ধান কাটা উৎসব

ধান কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষাণ-কৃষাণি

২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৫৬:২৯

হেলাল আহমদ, ছাতকঃ
ছাতকের হাওরজুড়ে এখন চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। হাওরের পুবালি বাতাসে মনমাতানো পাকা ধানের গন্ধে ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে এখানকার কিষাণ-কিষাণিরা এখন ক্ষেত থেকে পাকা ধান সংগ্রহ করতে ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ধানের ব্লাস্ট রোগ ও ক্ষতিকর মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জমিতে যে পরিমাণ ধানের ফলন হয়েছে নির্বিঘেœ সেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেই তাদের দুঃখ-দুর্দশা অনেকটা লাঘব হবে।

উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, চলতি মোৗসুমে বোরোর আশানুরূপ ফলন হয়েছে। হাওর ও মাঠে এখন চলছে সবুজ-সোনালী ধানের সমারোহ। গাছে গাছে দোল খাচ্ছে পাকা-আধপাকা ধান। কৃষক এবং শ্রমিকরা মিলে কোথাও কোথাও বেশ ফুরফুরে মেজাজে মাঠে ধান কাটছেন। কেউ কেউ ধান কেটে হাওর থেকে নিরাপদ স্থানে ধান আনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এরপর মাড়াই-ঝাড়াই শেষে শুকানোর জন্য ধান এনে খলায় রাখছেন। কৃষক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি হাওরপাড়ের কন্যা-জায়া-জননীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খলায় রাখা ধান শুকিয়ে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সিংচাপইড় ইউনিয়নের সোনারতাল হাওরের কৃষক আবুল কালাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৮কেয়ার (বিঘা) জমিতে ধান লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে দেড় কেয়ার জমির ধান কেটে গোলায় তুলেছেন। তিনি আরো জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে চারা গাছকে ক্ষতিকর মাজরা পোকা ও ব্লাস্ট রোগে আক্রমণ করায় অন্য বছরের চেয়ে এবার ধানের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি সপ্তাহে বাকি জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি জানান। চরমহল্লা, জাউয়াবাজার, ভাতগাঁও, দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, ছৈলা-আফজলাবাদসহ একাধিক ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ধানের আশানুরূপ ফলন হলেও এখানে ধান কাটার শ্রমিকের কিছুটা সংকট রয়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তারা অধিক পরিমাণে মজুরী চাইছে। ফলে অনেকেই সঠিক সময়ে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, চলতি বোরোর মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্মূখীন না হওয়ায় এখানে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা আগামী ১৫ থেকে ২০দিনের মধ্যে বাকি ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: