করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৬৭,০২৪
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

মিনি কক্সবাজার খ্যাত

নাটোরের হালতি বিলের অথৈ জলরাশিতে প্রতিদিন বসছে হাজারো মানুষের আনন্দ মেলা

১২ আগস্ট ২০২০, ৮:৫৭:১০

ফিরোজ আহমেদ, নাটোর প্রতিনিধি
ভ্রমণপিয়াসী মানুষ অবসরে নির্মল আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। আর এ টানেই শত শত মানুষের ঢল নামছে নাটোরের অথৈ জলরাশির মনোমুগ্ধকর হালতি বিলে। সব বয়সী মানুষ আসে মিনি কক্সবাজার খ্যাত এই রিভারভিউ দেখার জন্য। হালতি বিলের মধ্যদিয়ে নির্মিত রাস্তার কারনেই এই নৈসগিক সৌন্দর্য মানুষ উপভোগ করতে পারছে। যখন পানি একটু কম থাকে তখন ওই রাস্তায় হাঁটলে সমুদ্র সৈকতের আমেজ পাওয়া যায়। দুই পাশে পানি আর পানি। মাঝে ক্রংক্রিটের ঢালাইকরা রাস্তায় ছোট-বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। পা ভিজে যায়। বর্ষাকালের হালতি বিল অথৈ সমুদ্রের মতো। রেল লাইনের ধারে ছোট ছোট গ্রামগুলো ডুবডুব প্রায়। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে রাস্তার ধারে। আগে ঝড়ের সময় কত যে নৌকাডুবি হয়েছে এখানে। এই রাস্তা নিমার্ণের ফলে এখন যেন পুরোপুরি বদলে গেছে দৃশ্যপট। গ্রীস্মকালেও এখানকার দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর হয়। গ্রীস্মকালে ক্রংক্রিটের ঢালাইকরা রাস্তার দুপাশে যতদূর চোখ যায় শুধুই সবুজ ধানের সমারোহ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রচেষ্ঠায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাটুলহাট থেকে খাজুরাহাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি নিমার্ণ করা হয়। এর আগে খাজুরা এলাকায় যাওয়ার কোন রাস্তা ছিল না। উপমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি হিসেবে স্বল্পতম সময়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নাটোরের হালতিবিল এবং সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ক্রংক্রিটের ঢালাইকরা পানির মাঝদিয়ে ব্যতিক্রম দৃষ্টিনন্দন দুটি রাস্তা নিমার্ণ করা হয়। মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসছে এই বিলে নৌকা ভ্রমন করতে। কেউ কেউ দল বেঁধে বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিলের মধ্যে। আনন্দ ভ্রমণের এমন সুযোগ এর আগে আর মেলেনি এ অঞ্চলের মানুষের। মানুষ আসে দূর-দূরান্ত থেকেও। রাজশাহীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাহিদ ও বগুড়ার হুমায়রা ইয়াসমিন স্বপরিবারে এসেছেন হালতিবিল দেখতে। তারা বলেন, হালতিবিলের পরিবেশ যে এত নির্মল সুন্দর হবে ভাবিনি। পরিবারের সবাই খুব খুশি এখানে বেড়াতে আসতে পেরে। পত্রিকায় ও টিভিতে দেখে হালতিবিল বেড়াতে আসা ঢাকা উত্তরার সজিব রায়হান ও তার স্ত্রী রিফাত তাসনিম বলেন, সত্যিই খুব সুন্দর, মিনি কক্সবাাজার নাম দেয়া স্বার্থক হয়েছে। স্থানীয় ভ্যানচালক সামসুজ্জোহা খুব খুশি। কারণ তার আয় বেড়ে গেছে কয়েক গুন। আগে দিনে তার আয় হতো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা । এখন হচ্ছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। নৌকার মাঝি আব্দুল করিম এখন প্রতিদিন আয় করছে ছয়শতাধিক টাকা। এত বাইরের মানুষ সে এর আগে এ এলাকায় আসতে দেখেনি। হাজার হাজার মানুষের ঢল নামায় এখানে হকারের ভিড়ও বেড়েছে। মুড়ি, বাদাম,

চানাচুর, ফল, বিস্কুট, লজেন্স, চকলেট, পান-সিগারেট, চা এমনকি চুড়ি মালা-কসমেটিক্সের পসরা সাজিয়ে বসেছে অনেকে। বিক্রি হচ্ছে বেশ। নাটোর শহর থেকে হালতি বিলের দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। শহর থেকে শত শত অটোরিক্সা সিএনজি ও মোটরসাইকেলে যাওয়ার সহজ ব্যবস্থা রয়েছে। সহস্র মানুষের আগমনে হালতি বিল এখন মুখরিত। শুক্রবারে এই ভীড় বেড়ে যায় কয়েকগুন। নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আগত পর্যটকদের সুবিধার জন্য টয়লেটসহ আরো কিছু ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। গাড়ি রাখার গ্যারেজসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টও হয়েছে সম্প্রতি। বটবৃক্ষের গোড়া পাকা করে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভ্রমন পিপাসুদের জন্য আগে দুটি স্পীডবোড চললেও এখন বন্ধ আছে। সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই প্রতিবেদককে বলেছেন, অবহেলিত নলডাঙ্গা উপজেলার উন্নয়নের জন্যই সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইয়াকুব আলীসহ নেতাকর্মীদের দাবী পুরুনে আমি এই রাস্তা নির্মাণ করেছি। অথৈ জলরাশির এই বিলের মধ্যদিয়ে রাস্তা করার ঘোষনা দেয়ায় সে সময় অনেকে আমাকে পাগল মনে করেছিল। আমি গ্রাম থেকে নলডাঙ্গাকে শহরে পরিনত করেছি। সামনে আবার সুযোগ পেলে নাটোর-নলডাঙ্গার মানুষের উন্নয়ন ও বিনোদনের জন্য আমার আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: