করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৬৯৫ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৭ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০

নাসিরনগর ও সুনামগঞ্জে করোনার লক্ষণ নিয়ে ২ রোগীর মৃত্যু

৮ এপ্রিল ২০২০, ৬:৩৪:০০

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের বঙ্গবন্ধু সরণীতে আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যু হওয়ায় করোনা সন্দেহে হাসপাতালটি তালাবন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোসহ আশপাশের এলাকার জনসমাগম সীমিত করে দেয়া হয়েছে।

পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ওই গৃহবধূ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহম্মদ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি তালাবন্ধ করে দেন।

ডাক্তার বুলবুল আহম্মদ জানান, আইইডিসিআর-এর নির্দেশনা মোতাবেক রোগী করোনা ভাইরাসে মারা গেছে কিনা তা পরীক্ষা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, মৃত মহিলার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এ মুহূর্তে হাসপাতালের আশপাশসহ সামনের রাস্তাটিতে লোকসমাগম সীমিত করা হয়েছে। আইইডিসিআর-এর গাইডলাইন অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ২০ মার্চ তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে হোমা কায়ারেন্টাইনে ছিলেন।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালে থাকা রোগীরাও সরে গেছেন।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ওই ব্যক্তির বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নে। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত ২০ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন। নিজ বাড়িতেই তিনি ১ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ৪ এপ্রিল থেকে তার শরীরে জ্বর, ব্যথা বাড়তে থাকে। পরে মঙ্গলবার রাতে নাসিরনগর হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু হয়।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা ডা. সানজিদা জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে কি কারণে তিনি মারা গেছেন পরীক্ষা না করা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। ওই ব্যক্তির লাশ নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা আশরাফী এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে আনার পর তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সেখানে তার টাইফয়েড জাতীয় কিছু লক্ষণ ধরা পড়ে। করোনার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে তিনি কি কারণে মারা গেছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: