fbpx
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলছে লেগুনা সেইফলাইন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মিঠাছরায় মানববন্ধন

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১:২৪:৩০

ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম):::
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি চালিত তিনচাকার অটোরিকশা বন্ধের পরও কিছুতেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। নিয়মিত বিরতিতে ঝরছে পথচারী ও যাত্রীসাধারণের প্রাণ। অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন কম গতির যাত্রী পরিবহণ মহাসড়কে চলার কারণেই এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে বলে ধারণা সাধারণ মানুষের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে মহাসড়কে অধিকাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন লেগুনা সেইফ লাইন নামের যাত্রী পরিবহণের কারণে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা পরিবহণের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ হারান স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা।

গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা মিলনের যানাজা শেষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে উপজেলার মিঠাছরা বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত ওই মানববন্ধন থেকে তারা মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও লেগুনা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রুট পারমিট যাছাইয়ের দাবি জানায়। এসময় তারা বেশ কয়েকটি লেগুনা থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট যাছাই করে কোন ধরণের কাগজপত্র পায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ৯ নম্বর সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রিহাব উদ্দিন জানান, বুধবার মানববন্ধন শেষে অন্তত ১০টি লেগুনা সেইফলাইন দাঁড় করিয়ে চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদ যাছাই করে দেখা হয়। এসব গাড়িতে কোন রকম কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রী হুইলার বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর ফোর হুইলার বৈধতার সুযোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই ও সীতাকুন্ড অ লে হুলুস্থুল করে নেমে পড়ে ফিটনেসবিহীন লেগুনা ও সেইফলাইন পরিবহণ। এখানকার বারইয়াহাট পৌরসভা এলাকা থেকে সীতাকুন্ড সদর পর্যন্ত অন্তত ৬০টি লেগুনা-সেইফলাইন যাত্রী পরিবহণ করছে। মিরসরাই-সীতাকুন্ড হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সাইনবোর্ডে চলাচল করা এসব গাড়ির অধিকাংশরই রুট পারমিট নেই। শুধু তাই নয় বেশিরভাগ অদক্ষ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই ধাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে মহাসড়ক।

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের আলোকে জানা গেছে, গত ৩ বছরে মহাসড়কের মিরসরাই অ লে লেগুনা পরিবহণ যত্রতত্র দাঁড়ানোর কারণে ৩টি বড় দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই সুফিয়া রোড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনার পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ৩ যাত্রী নিহত হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল উপজেলার নয়দুয়ারি এলাকায় আবারও লেগুনার পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারায় স্থানীয় প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রসুল। সবশেষ গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১০টার নাগাদ জামালের দোকান এলাকায় লেগুনার পেছনে কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দিলে প্রাণ হারায় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন (৬০) ও ছাত্রলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন মিলন (৩০)।

মিরসরাই-সীতাকুন্ড হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন মাসুদ জানান, ‘উল্লেখিত রুটে ৫০ থেকে ৬০টির মত লেগুনা যাত্রী পরিবহণ করছে।’ এসব লেগুনার রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চাইলে মালিক সমিতির এ নেতা বলেন, ‘আমরা সবসময় লেগুনার মালিক ও চালকদের নিয়ে বৈঠক করি। সবাইকে রুট পারমিট ও লাইসেন্স নিতে বলি। কিন্তু অনেকে তা মানতে চান না। বিশেষ করে এ ব্যাপারে মালিকদের গাফেলতি রয়েছে।’

এসব বিষয়ে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার বলেন, ‘আমি এ ফাঁড়িতে যোগদানের পর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। মালিক ও সমিতির প্রাভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দূরহ। তবে নিয়মিতভাবেই আমরা চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট নিশ্চিতে অভিযান চালাই। এর জন্য দরকার বিআরটিএ এর সমন্বিত উদ্যোগ।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: