করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৯৯৬ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৩ ◈ মোট সুস্থ্য : ১৫১,৯৭২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

নীলফামারীর লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে গৃহবধূর মৃতুদেহ নদীতে ফেলেয়াও রক্ষা পেল না হত্যাকারীরা

৯ জুলাই ২০২০, ১১:২৩:২৪

মোঃ ছোটন মিয়া নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
গত ইং ০৬/৭/২০২০ তারিখ সকাল অনুমান ১০.৩০ মিনিটের সময় জনগণ কর্তৃক সংবাদ পাওয়া যায় ৩নং নিতাই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে চাড়ালকাটা নদীতে একজন মহিলার লাশ ভাসমান অবস্থায় আছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখিতে পায় গৃহবধূ শ্যামলীর লাশ। পরবরর্তীতে জানা যায় বেলতলী বালাপাড়া গ্রামের এলাহী বক্স@কান্দুরার ছেলে আশিফুল ইসলাম @টাইগার(৩০)এর সাথে শ্যামলী বেগম(২২) এর ৫ বছর আগে বিবাহ হয়।

গত ইং ০৩/৭/২০২০ তাং রাতের বেলা আশিফুল ইসলাম @ টাইগার জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য শ্যামলীর সাথে মেলামেশা করতে চাহিলে শ্যামলীর শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় সে শারীরিক মেলামেশা করতে অস্বীকার করায় তাহাকে রাতে মারমিট করে আর বলে রাত পোহালে সকাল বেলায় তোর বাবার বাড়ী চলে যাবি।

পরের দিন ইং ০৪/৭/২০২০ তাং সকাল বেলা আশিফুল ইসলাম @ টাইগার ঘুম থেকে উঠে শ্যামলীকে দেখিতে পাইয়া বলে তুই এখনও আমার বাড়িতে আছিস, বাপের বাড়িতে যাস নাই কেন ? এই কথা বলে শ্যামলীকে মারপিট করে। ঐ দিন পুনরায় রাত অনুমান ০৭.৪৫ মিনিটের সময় ঘরের পিছন থেকে কাঁঠাল গাছের চাড়ার খুঁটি উপরাইয়া সে খুঁটি দ্বারা দক্ষিণ দুয়ারী শয়ন ঘরের ভীতর শ্যামলীর গলার ডান পার্শ্বে ও ডান পার্শ্বের পাজোরের নীচে আঘাত করিলে সে জ্ঞান হারাইয়া ঘরের ভীতরে থাকা খাটের উপর পড়িয়া যায়।

অতঃপর মৃত্যু বরণ করেন।তখন আসামী আশিফুল ইসলাম @ টাইগার, আসামি এলাহী বক্স@ কান্দুরা এবং আসামি আশফিয়া বেগম শলা পরামর্শ করে যে লাশটি নদীতে ফেলিয়া দিলে দুরে কোথাও ভেসে যাবে অথবা মাছে খেয়ে ফেলবে।

পরামর্শ শেষে তাহারা শ্যামলীর মৃত্যু দেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে শাড়ি কাপড় ও ছামীয়ানা দ্বারা পেঁচিয়ে আশিফুল ইসলাম @ টাইগার ও এলাহী বক্স @ কান্দুরা দ্বয় কাধে নিয়ে বাড়ি হতে অনুমান আধা কিঃমিঃ পূর্ব দিকে চাড়ালকাটা নদীতে ফেলিয়া দেয়।

পরে তারা এলাকায় প্রকাশ করে শ্যামলী বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যেন চলে গিয়াছে। পরের দিন ইং ০৫/৭/২০২০ তাং রাত অনুমান ০৮.৩০/০৯.০০ টার দিকে শ্যামলীর বড় ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেনের সাথে মৃতার স্বামী আশিফুল ইসলাম @ টাইগার এর বাড়ীর পার্শ্বে রাস্তায় দেখা হলে তার বউ- বাচ্চা কেমন আছে খোঁজ খবর নেয়।

তখন সে বলে বাচ্চা তো ভালো আছে শ্যামলী ঝগড়া করে আজ সকালে বাপের বাড়ি চলে গেছে। তখন মৃতার বড় ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন করে শ্বাশুড়িকে বলে শ্যামলী সেখানে গিয়েছে কিনা। তখন তার শ্বাশুড়ি জানান শ্যামলী আসে নাই। তখন তার সন্দেহ হয়।

সংবাদ পাওয়ার পর শ্যামলীর বাবা মা বিভিন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। না পাইয়া উক্ত তারিখ রাত অনুমান ১০/১০.৩০ টার দিকে শ্যামলীর স্বামীর বাড়িতে আসিয়া দেখে শ্যামলী নাই। তখন তাহারা শ্যামলীর স্বামী আশিফুল ইসলাম @ টাইগারকে জিজ্ঞেস করে শ্যামলী কোথায় সে জানায় শ্যামলী কোথায় গিয়াছে সে জানেনা বা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারে না। পরে শ্যামলীর বাবা মা ভগ্নিপতিসহ অন্যান্য আত্নীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করিতে থাকে। পরের দিন ইং ০৬/৭/২০২০ তাং সকাল অনুমান ১০.০০ টার দিকে তাহারা লোক মারফত জানতে পারে একজন মহিলার লাশ বেলতলী ব্রীজের পাশ্বে চাড়ালকাটা নদীতে ভাসমান অবস্থায় আছে। তখন তারা সেখানে গিয়ে শ্যামলীর লাশ দেখিয়া সনাক্ত করেন।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অত্র ঘটনার মুল হোতা শ্যামলীর স্বামী আশিফুল ইসলাম @ টাইগার ও শ্বশুর এলাহী বক্স@ কান্দুরাদ্বয়কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে করেন। বিজ্ঞ আদালতে উক্ত আসামি দ্বয় দোষ স্বীকার করে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধরা

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: