প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

নুরের বিরুদ্ধে রোকেয়া হলে ভাংচুর ও প্রভোস্টকে লাঞ্ছিত মামলায় ৭জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন।

২১ মে ২০১৯, ৯:১৩:৪৬

গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীদের খালি ব্যালট বাক্স না দেখানোর অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা। পরে দুপুরে হলের ভোটগ্রহণ কক্ষের পেছনে আরেকটি কক্ষে ব্যালট পেপার বোঝাই ট্রাংক পাওয়া গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কারচুপির অভিযোগ এনে তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে তিন ঘণ্টা।

ঐসময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর উপস্থিতিতে নুরের উপর হামলা চালানো হয় ও নুর ঐ সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ করে নুর ও তার প্যানেল।
কিন্তু ছাত্রলীগ হামলার কথা অস্বীকার করে এবং তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় নুর মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলে।

তবে ওই ঘটনার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী জানান, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬০৭টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার দাবি, ওইসব ব্যালটে কোনো চিহ্ন দেওয়া ছিল না, কারচুপির কোনো ঘটনাও সেখানে ঘটেনি।

হল প্রভোস্টও একই দাবি করে বলেন, বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। সংরক্ষিত ব্যালট পেপারগুলো সাদা। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভোস্টের কথা না শুনে তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং শিক্ষার্থীদের গালাগাল করেন। এসময় তারা রোকেয়া হল সংসদের দরজা-জানালা লাথি মেরে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পরে তারা সংসদের ভেতর অনধিকার প্রবেশ করে একটি ট্র্যাংক বের করে আনেন। সেটি খুলে দেখা যায়, সব ব্যালট পেপারই সাদা।

অতপর রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মারজুকা রায়না বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বানচাল করার চেষ্টা চালান অভিযুক্তরা। তারা গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে গুজব ছড়ান যে, ট্রাকভর্তি সিলমারা ব্যালট পেপার হলের ভেতরে রয়েছে। পাশাপাশি তারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে উসকে দেন।

উক্ত মামলায় ভিপি নুরুল হক নুর সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ৭ জুলাই জমা দেয়ার দিন ধার্য করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সারাফুজ্জামান আনছারী নতুন দিন ধার্য করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

উল্লেখ্য যে বাকী পাঁচ জন হলো-বামজোট সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী, জিএস প্রার্থী ঢাবির জহুরুল হক হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আনিসুর রহমান, জিএস প্রার্থী ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবীবা বেনজীর ও রোকেয়া হল সংসদে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শেখ মৌসুমী।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: