প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে অচল বরিশাল নদী বন্দর

৩০ নভেম্বর ২০১৯, ২:১৮:১৯

সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি পালন করছে তারা।

এর ফলে শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে বরিশাল বন্দর থেকে ছেড়ে যায়নি ছোট বড় কোন লঞ্চ।

নৌযান শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন, সার্ভিস বুক, নৌপথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মেরিন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সকল প্রকার শ্রমিক হয়রানি বন্ধ, মালিক কর্তৃক সকল নৌশ্রমিকদের খাদ্য ভাতা প্রদান, কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১১ দফা দাবি।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল আঞ্চলিক কমিটি সভাপতি শেখ আবুল হাসেন বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আমরা বেশ কয়েকবার ১১ দফা দাবিতে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেছি।

নৌমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও আমাদের অধিকাংশ দাবি পূরণ করেনি লঞ্চ মালিকরা। আর অধিকাংশ দাবি মেনে না নেয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন নৌযান শ্রমিকরা।

বরিশাল নদী বন্দর সূত্রে জানাগেছে, ‘এখান থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১১টি রুটে প্রায় অর্ধশত লঞ্চ চলাচল করে। তাছাড়া প্রতিদিন ঢাকা সদর ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে আরও অর্ধশতাধিক লঞ্চ।

একইভাবে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং কুয়াকাটা থেকে একইভাবে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে নৌযান। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকেই সেইসব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যদিও শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭টি লঞ্চ ভোর রাতে বরিশাল নদী বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ওই লঞ্চের শ্রমিকরাও কর্মবিরতি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। শুক্রবার বরিশাল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে গেলেও কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে শনিবার কোন লঞ্চ চলাচল করবে না বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক সভাপতি আবুল হাসেম।

এদিকে, আকস্মিকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে মহাবিপাকে। অসংখ্য যাত্রী সকালে বরিশাল নদী বন্দরে আসে। কিন্তু লঞ্চ চলবে না শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: