করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬০২,৯০৮
প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

পরীক্ষার হলে বড় মেয়ে, বাইরে বাবা-মা-ছোট বোন

২ এপ্রিল ২০২১, ৩:৩৫:৩৩

মহামারির মধ্যে মেডিকেল কলেজের পরীক্ষায় অংশ নিলেন সোয়া লাখ পরীক্ষার্থী। কিন্তু যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন ঘোষণার বাস্তবায়ন ছিল তো দূরের কথা, কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বা সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দুর্বল ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। আর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর বলছে, কেন্দ্রের বাইরের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব নয়।

কেন্দ্রের সামনে উপচেপড়া ভিড়। গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে অভিভাবক-পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে বেশির ভাগের মুখে মাস্ক থাকলেও উধাও ছিল অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি। একদিকে প্রচণ্ড ভিড়, অন্যদিকে রাস্তা বন্ধ না করে যান চলাচল অব্যাহত থাকায় ভোগান্তি বাড়ে দ্বিগুণ।

অভিভাবকরা জানান, করোনা মহামারিতে পরীক্ষা পেছানোটা খুব জরুরি ছিল। যেহেতু করেনি, সে জন্য ভালো ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার ছিল, সেটাও করেনি।

এক শিক্ষার্থী জানান, এত অভিভাবকরা এসেছেন। আর অনেক মানুষ ছিল। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানা খুবই কষ্টকর।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- দায় কি কেবল কর্তৃপক্ষের? ভবিষ্যৎ ডাক্তার হওয়ার আশায় পরীক্ষা দিয়েছেন একজন। আর তার সঙ্গে এসেছেন তিন-চার অভিভাবক।

আরেক অভিভাবক জানান, বড় মেয়ে পরীক্ষা থেকে এসেছেন। আমি, আমার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে এসেছি।

শরীরের তাপমাত্রা যাচাই করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। ১ ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা জানান, কেন্দ্রে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত হলেও ছিল না কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, স্বাস্থ্যের এমন ঘোষণা নিশ্চিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কোনো কোনো কেন্দ্রে মাইকে সতর্ক করার চেষ্টা ছিল। তবে, তদারকি করতে কাজ করতে দেখা যায়নি সরকারি টিমকে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন বলেন, বাইরের বিষয়টা আমরা দেখার কেউ না। আমরা আগে হল খুলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। হলে কেউ অসুস্থ হলে সে জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল।

ঢাকায় ১৫টি কেন্দ্রে ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সময় আরো একদফা বেড়ে যায় সংক্রমণের ঝুঁকি। অভিভাবকদের খুঁজে পেতে ভিড় ঠেলে বের হতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

এইচএসসিতে অটো পাশের বিড়ম্বনা নিয়ে প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলো দেশের লক্ষাধিক মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের। নানা সংকটের পরও অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: