করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭২১,৪৩৫
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

পিরোজপুরে বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ড.তারেক শামসুর রেহমান

১৯ এপ্রিল ২০২১, ৭:৪৫:২৭

জালিস মাহমুদ,পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক সদস্য ও কলামিস্ট ড. তারেক শামসুর রেহমান পিরোজপুরে মা বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে।

১৯ এপ্রিল (সোমবার) সকাল ১০ টায় পিরোজপুর শহরের পুরাতন ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাযা নামায শেষে পিরোজপুর পৌর কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশে ড. তারেক শামসুর রেহমান কে দাফন করা হয়েছেন।

ড. তারেক শামসুর রেহমানের ভাই খালিদ শহিদুর রহমান মিঠু জানান, “আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানের ইচ্ছায় প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ঢাকায় দাফন করা হবে। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা ছিল তাকে যেন মা বাবার পাশে দাফন করা হয়।পরে ভাইয়ের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী আমরা আমার ভাইয়ের লাশ ঢাকা থেকে পিরোজপুরে নিয়ে এসে পিরোজপুর পৌর কবরস্থানে বাব-মার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়”।

পিরোজপুর শহরের উকিলপাড়া এলাকার ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহন করেন ড. তারেক শামসুর রেহমান। মরহুম এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ও শিরিন রহমানের বড় ছেলে ড. তারেক শামসুর রেহমান ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী। ড. তারেক শামসুর রেহমানের স্ত্রী শ্যামলী রহমান ও একমাত্র মেয়ে অনামিকা রহমান যুক্তরাষ্টের ট্রেক্সাসে বসবাস করছেন। তাঁর পিতা মরহুম এডভোকেট আতাউর রহমান পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ৬ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে ড. তারেক শামসুর রেহমান সবার বড়। তার ছোট ভাই খালিদ শহিদুর রহমান মিঠু পিরোজপুরে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। শিক্ষা জীবনের শুরুতে ড. তারেক শামসুর রেহমানের পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে ১৯৬৮ সালে এস এস সি পাশ করেন। পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্ট্রার্স পাশ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন তারেক শামসুর রেহমান। এরপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক সদস্য তারেক শামসুর রেহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে অনেক গ্রন্থ রয়েছে প্রখ্যাত এই বিশ্লেষকের। বই লেখার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লিখতেন। দেশের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তারেক শামসুর রেহমানের।তিনি দুই বছর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যান। রাজধানীর উত্তরার নিজ ফ্লাটে একাই বসবাস করতেন।

ড. তারেক শামসুর রেহমানের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইরাক যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণতন্ত্রের শত্রু-মিত্র, নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্র, উপ-আঞ্চলিক জোট, ট্রানজিট ইস্যু ও গ্যাস রফতানি প্রসঙ্গ, বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও রাজনীতি, বাংলাদেশ: রাজনীতির ২৫ বছর, বাংলাদেশ: রাজনীতির চার দশক, গঙ্গার পানি চুক্তি: প্রেক্ষিত ও সম্ভাবনা, সোভিয়েত-বালাদেশ সম্পর্ক, বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উত্তরা-১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের আবাসিক প্রকল্পের দোলনচাপা বিল্ডিংয়ের ১৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে শামসুর রেহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড.তারেক ওই বাসায় একাই থাকতেন। স্ত্রী ও সন্তান দেশের বাইরে থাকেন। শনিবার সকাল ৮ টার দিকে গৃহ পরিচারিকা বাসায় এসে অনেক ডাকাডাকি করার পরও ভেতর থেকে সাড়া মেলেনি। পরে সাড়ে ১১ টার দিকে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। তাঁর মরদেহ অর্ধেক বাথরুমে আর অর্ধেক ঘরের মধ্যে পড়ে ছিল।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: