করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,০১৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৬,৪৪২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুমান নির্ভর বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে

৪ জুন ২০২০, ১:১৬:৪৮

মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলা, (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের শরনখোলায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) কর্তৃপক্ষের অনুমান নির্ভর বিদ্যুৎ বিল অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে। গ্রাহকদের নিকট সবারহকৃত বিলের সাথে মিটার রিডিং এর কোন মিল নেই। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ অনুমান ভিত্তিক ইচ্ছামত টাকার অংক বসিয়ে একসাথে দু’মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ গ্রাহকদের ধরিয়ে দিচ্ছেন। যা বর্তমান মুহুর্তে কর্মহীন পরিবারগুলোর মাথার উপর একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ দশকে এ অঞ্চলে পিডিপির বিদ্যুৎ সেবা শুরু হয়। যা পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে রুপান্তরিত হয়। বর্তমানে উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সেবার কার্যক্রম চালাচ্ছেন পবিস। গ্রাহক সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে মিটার রিডিং না দেখে একত্রে তিন মাসের ভৌতিক বিল গ্রাহকদের মাঝে সরবারহ করলে সেবার মান নিয়ে হৈ-চৈ পড়ে উপজেলা জুড়ে।
উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা মোঃ বাবু হাওলাদার বলেন, পুর্বের চেয়ে আমার ঘরের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং বিল কাগজের সাথে মিটার রিডিং এর কোন সম্পর্ক নেই। একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাসের বিল কাগজ হাতে পেয়ে দেখি ১৯০ ইউনিটের বিল করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত মিটারে ১৮০ ইউনিট বিদ্যুৎও খরচ হয়নি। এখন অতিরিক্ত বিলের টাকা কে দেবে?
এছাড়া প্রবাসী রিপন হাওলাদারের স্ত্রী এবং বাজার ব্যাবসায়ী ইউনুচ আকন বলেন, করোনার কারনে আমাদের বাড়ি ও দোকান প্রায় তিন মাস বন্ধ ছিল তার পরেও বহু টাকা বিল দিয়ে গেছে এখন তা পরিশোধ করব কি ভাবে?
মান্নান মার্কেটের পরিচালক মোঃ হেলাল তালুকদার বলেন, অনুমান ভিত্তিক বিলের কারনে আমার বাসা-বাড়ি ও মার্কেটের বিল অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে যা অনিয়মের শামিল।
খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা শিরিন আকতার বলেন, আমার বাড়ির এপ্রিল মাসের বিল কাগজে মিটার রিডিং ধরা হয়েছে ৪৪০ ইউনিট কিন্তু বিল হাতে পেয়ে মিটারের সাথে মিলিয়ে দেখি ২৩৫ ইউনিট।
তবে, এবিষয়ে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরনখোলা অফিসের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.জি.এম আশিক মাহামুদ চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বিগত মাসের বিলের সাথে তুলনা করে অনুমান ভিত্তিক বিল করা হয়েছে। কারো বিলে অতিরিক্ত ইউনিট লেখা হলে তা অফিসে নিয়ে আসলে সংশোধন করে দেয়া হবে। এছাড়া কেউ বিলের টাকা বেশি দিয়ে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: